ইদ উপলক্ষে পুরনো কলকাতার খাবারের সবথেকে বড় ঠেক হল জাকারিয়া স্ট্রিট। পূর্ব ভারতের সবথেকে বড় নাখোদা মসজিদ-সংলগ্ন এলাকাস অবস্থিত জাকারিয়া স্ট্রিট-এ ইদের মরশুমে ভীড় জমান খাদ্যপ্রেমী মানুষ। ইদকে কেন্দ্র করে এই জাকারিয়া স্ট্রিটের চেহারাটাই অন্যরকম হয়ে যায়। 

এই সময়ে জাকারিয়া স্ট্রিটের বিশেষ আকর্ষণ শুকনো ফল যার মধ্যে রয়েছে শুকনো নারকোল, খেঁজুর, কাজু, কিসমিস, আখরোট, কাঠবাদাম। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ধরণের মাংসের কাবাব (যার মধ্যে বিখ্যাত সুতলি কাবাব), রেজালা, হালিম, বিভিন্ন ধরণের মাংসের পকোড়া। মিষ্টি মুখ করার জন্য রয়েছে লাচ্ছা, একাধিক উপকরণ সহযোগে তৈরি হালুয়া, অমৃতি, অ্যাপ্রিকট-এর চাটনি যার আসল নাম খোবানি কা মিঠা, ছাড়াও ইদ স্পেশাল রসমালাই এবং গোলাপ জামুন। আরও কত কি! আর গলা ভেজানোর রয়েছে বিভিন্ন ধরণের রঙ-বেরঙের সরবত।

ইদের বাজারে সবথেকে বড় আকর্ষণ কিন্তু হালিম। বলা হয়, দশম শতাব্দী থেকে আরবে প্রথম হালিমের সূচনা। তখন বিশেষ এই মাংসের পদটিকে সকলে হারিস নামেই চিনত। পরবর্তীকালে আরব থেকে এদেশের হায়দরাবাদ হয়ে তারপর ধীরে ধীরে গোটা দেশে হালিম নামে ছড়িয়ে পড়ে। ইদের সন্ধেবেলা এক প্লেট হালিমই কিন্তু ক্ষুধা নিবারণের জন্য যথেষ্ট। ইদের সময়ে জাকারিয়া স্ট্রিটের তাস্কিনের চিকেন চাঙ্গেসি না খেলে খাওয়া দাওয়া কিন্তু সম্পূর্ণই হল না। তবে নাম শুনে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে, এর সঙ্গে চেঙ্গিস খানের কোনও সম্পর্ক রয়েছে বলে। তাস্কিনের আর একটা বিশেষ পদ কিন্তু ফালুদা। এই ফালুদা কিন্তু সেখানে সারা বছরই পাওয়া যায়। 

জাকারিয়া স্ট্রিটের যে দিকেই চোখ যায়, সেদিকেই শুধু খাবার আর খাবার। জাকারিয়া স্ট্রিটের অলিতে গলিতে এই সময়ে কেবলই খাবারের গন্ধে ম-ম করে। আর ইদের মতো এক বিশেষ দিন খাওয়া-দাওয়া ছাড়া ঠিক জমে না। তাই ইদের প্রাক্কালে এমন মন ভাল করা স্বাদের সন্ধান পেয়েও নিজেকে বঞ্চিত রাখবেন না। চেখে আসুন একের পর এক মন ভাল করা সুস্বাদু খাবার।