নবান্ন থেকে নিমতায় গেলেন মমতা। দেখা করলেন উত্তর দমদম পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দলের সভাপতি নির্মল কুন্ডুর পরিবারের সঙ্গে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের পাড়াতেই বাড়ির সামনে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন নির্মলবাবু। অভিযোগ, সেই সময়ে মোটরবাইকে চড়ে হেলমেট পরা দুই দুষ্কৃতী সেখানে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা নির্মলবাবুর মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান ওই তৃণমূল নেতা। সঙ্গে সঙ্গেই এলাকা ছেড়ে পালায় দুই দুষ্কৃতী। 

দ্রুত নির্মলবাবুকে উদ্ধার করে বেলঘড়িয়ার একটি নার্সিং হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। নিমতা থানার পুলিশ গিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এ ছাড়াও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট থেকেও পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে আসেন।  মমতা জানান নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি।

এদিন মমতা ঘটনাস্থল থেকে বলেনঃ

  • আমরা ওর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি ওরা চায় শাস্তি হোক। খুনিদের ক্ষমা করা হবে না। সিআইডি আমার সঙ্গে আছে। এখানের কমিশনার আছেন। আমি একা আসিনি। কাউকে টাকা দিয়ে খুন করানো খুব সহজ। কারা চক্রান্ত করেছে সেটা আমাদের খুঁজে বার করতে হবে। এখনও ভোটে জেতেনি। ‌এটা কোন রাজনীতি। এখানে খুন করছে অথচ দিল্লিতে গিয়ে বলছে বিজেপি কর্মী খুন হয়েছে। বিজেপি জেতার পরেই সন্ত্রাসের উলঙ্গ চিতা জ্বলছে। জয় বাংলা, এটা আমাদের বাংলার স্লোগান। 
     
  • বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান করা হচ্ছে। তথাগত রায় বাংলার মেয়েদের অপমান করেছেন। বিজেপি কে বলবো নিজেদের কথা কন্ট্রোল করুন। সম্বিত ফিরে আসুক। কাজ করুক সন্ত্রাস করবেন না। কতো টাকা এসেছে। আমরাও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করে কাজ করছি। 
     
  • আজও বিজেপি মিছিলের নামে তাণ্ডব করা হচ্ছে। রাজ্যে কোথাও বিজেপি মিছিল করা যাবে না। নেতারা যদি করে তাহলে ব্যবস্থা করতে হবে আইনত।
     
  • যাদের যেখানে সরকার আছে সেখানে তারা কাজ করবে। কেউ যদি বলে আমি শুধু দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব সেটা সাফল্য হবে না। 
     
  • সব মানুষকে সবসময়ের জন্য বোকা বানিয়ে রাখা যাবে না। একবার ভাড়াটে গুণ্ডা দিয়ে খুন করা যায়। কিন্তু মানুষ প্রতিরোধ করলে সেটা কি বারবার করা যাবে।
     
  • বিজেপি যাতে বাংলার ফিরতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

    প্রসঙ্গত এদিন মৃতের পরিবার থেকে অপরাধীদের শাস্তির দাবি করা হয়।