ইদ আসতে বাকি আর কয়েক ঘণ্টা। তার আগে আরও একবার ইফতার পার্টিতে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  ইকবালপুর নবাব আলি পার্কে এক ইফতার পার্টিতে উপস্থিত হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রইলেন ববি হাকিম,বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়-সহ আরও অনেক পরিচিত তৃণমূল নেতারা। 
 
মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এলাকার প্রায় ১০০০ লোক এদিন এক সঙ্গে সন্ধের পথে ইফতার পালন করল। প্রসঙ্গত গত সোমবারও কলকাতা পুরসভার তরফে আয়োজিত হয়েছিল ইফতার। পার্কসার্কাস ময়দানের সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন মমতা।

লোকসভা ভোটে তৃণমূলের খারাপ ফলের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রীকে স্বস্তি দিয়েছে মুসলমান ভোট ব্যাঙ্ক । রাজনৈতিক মহল মনে করছে আগামী বিধানসভায় কোনও মতেই সেই রাশ আলগা হতে দেবেন না মমতা। সেই বার্তা দিতেই লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরেই সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, 'যে গরু দুধ দেয় তার লাথি খেতে রাজি'। ইদের ঠিক মুখে তাঁর জোড়া ইফতার প্রমাণ করল, তিনি কথা রাখছেন।

লোকসভা ভোটে ব্য়াপক ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে তৃণমূল দল। সরকারী কর্মচারী, মধ্যবিত্ত ইত্যাদি নানা বর্গের রোষের ছাপ পড়েছে ব্যালট বক্সে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে মমতা শুরুতেই বুঝতে পেরেছেন তাঁর মূল অস্ত্র মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক। আসন্ন বিধানসভায় এই ২৭ শতাংশ ভোট ছাড়া মমতার তরী তীরে পৌঁছবে না। তাই তোষণের প্রসঙ্গ উঠতেই রীতিমতো ক্রদ্ধ হয়ে যান মমতা। সপাট জানিয়ে দেন, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক তাঁর সহায়। তবে তিনি যে লব্জ ব্যবহার করেন, তা নিয়ে কথা ওঠে। মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেই ব্যবহার করবেন, নাকি তাঁদের সার্বিক উন্নয়নের কথাও ভাববেন? সচেতন না হলে উত্তর দেবে আগামী বিধানসভা ভোট।