'নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও এসআইআর শুনানিতে ডাকা হত?', নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
'নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও এসআইআর শুনানিতে ডাকা হত?', নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার রেড রোডে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্ররে বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মমতা। এসআইআর থেকে বিজেপির মেরুকরণ, প্রায় সব ইস্যুতেই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আজ নেতাজির জন্মদিন। এখনও দিনটাকে জাতীয় ছুটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। তিনি দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর ফিরে এলেন না। আমরা তাঁর জন্মদিনটা জানি। মৃত্যুদিনটা বলতে পারি না। কেন এখনও নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের কোনও কিনারা হল না?'
দেশের ইতিহাসকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'ভারতবর্ষের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বাংলার মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে। বাংলাকে অসম্মান করা হচ্ছে। ভোটের সময়ে টেলিপ্রম্পটারে বাংলা ভাষায় কথা বলে ভাঁওতা দেওয়া হচ্ছে। দেশের জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের অসম্মান করা হচ্ছে। দিল্লি এখন চক্রান্ত নগরীতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার যে স্বপ্ন নেতাজি দেখেছিলেন তা বর্তমানে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। নেতাজি প্ল্যানিং কমিশন তৈরি করেছিলেন। জেনে বুঝে সেটা তুলে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে তৈরি করা হয়েছে নীতি আয়োগ। সেটা খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না।' কেন এখনও ২৩ জানুয়ারিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'আমাদের দুর্ভাগ্য যে, নেতাজির জন্মদিনটিকে এখনও জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। আমরা নেতাজির মৃত্যুদিন জানতে পারিনি।'
এরপরেই এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেন, '১১০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে, কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হবে না। আজকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বেঁচে থাকলেও কি তাঁকে শুনানিতে ডাকা হত? ইতিমধ্যেই নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। পদে পদে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বাংলার ১ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষকে ডেকেছে শুনানিতে। তার আগে একতরফা ভাবে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। মোট সংখ্যাটা প্রায় ২ কোটি। ৭ কোটি মানুষের মধ্যে ২ কোটি বাদ গেলে কত বাকি থাকে? আদিবাসী, তপসিলিদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমার বাড়িতে এক আদিবাসী মেয়ে আছে। সে বলল তার বাড়ির সকলকে ডেকে পাঠিয়েছে। অমর্ত্য সেনকে ডেকে পাঠিয়েছে বাবা-মায়ের বয়সের ফারাকের জন্য। এ বার বিয়ে করবে কি না সেটাও জিজ্ঞেস করতে হবে? প্রেম করবে কি না, সেটাও ওরা বলে দেবে। বাচ্চা জন্মাবে কি না, সেটাও ওরা ঠিক করে দেবে? জন্মালেও ওদের পারমিশন নিয়ে জন্মাতে হবে।'


