শহরের যান চলাচল আরও মসৃণ করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। রেড সিগনালে না থেমে পালিয়ে গেলে আর নিস্তার মিলবে না। ঠিক খুঁজে নেওয়া হবে। বলা ভাল খুঁজে নেবে ক্যামেরা।

শহরের যান চলাচল আরও মসৃণ করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। রেড সিগনালে না থেমে পালিয়ে গেলে আর নিস্তার মিলবে না। ঠিক খুঁজে নেওয়া হবে। বলা ভাল খুঁজে নেবে ক্যামেরা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ২০টি মোড়কে ‘সিগন্যাল ভায়োলেটেড ক্রসিং’ বলে চিহ্নিত করেছে লালবাজার। চিহ্নিত ২০টি ক্রসিংয়ে বসছে রেড লাইট ভায়োলেশন ক্যামেরা। কোনও গাড়ি রেড সিগনাল অমান্য করলেই সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে রুজু হবে ট্রাফিক মামলা। গুণতে হবে ন্যূনতম ১০০০ টাকা জরিমানা। এই ২০টি জায়গায় ক্যামেরা বসাতে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হবে। তবে শহরের ঠিক কোন কোন ক্রসিংয়ে এই ক্যামেরা লাগানো হবে, তা জানানো হয়নি কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে। তবে সূত্রের খবর, খিদিরপুর মোড়ে, কোয়েস্ট মলের সামনের ক্রসিং, যাদবপুরের সুলেখা মোড়, বাঘাযতীনে মোড়ে এই অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসানো হতে পারে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শহরে বোপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ে অনেক দিন ধরেই অভিযোগ জমছে। অনেক মৃত্যুর কারণও এই তীব্র গতিতে গাড়ি বা বাইক চালানো। কোনও বাইকে আরোহীর সংখ্যা তিন, কারও মাথায় হেলমেট নেই, আবার কেউ রেড সিগনালই না মেনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার জেরে হামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। বারেবারে সচেতনতার বার্তা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তাই এবার কড়া হতে হচ্ছে পুলিশকে।

কীভাবে কাজ করবে রেড লাইট ভায়োলেশন ক্যামেরা বা আরএলভিডি ক্যামেরা?

জানা যাচ্ছে, যে কোনও ক্রসিংয়ে দু’টি সিগনাল পোস্ট থাকে। প্রথমটিকে বলা হয়— প্রাইমারি সিগনাল পোস্ট। দ্বিতীয়টিকে সেকেন্ডারি সিগনাল পোস্ট বলা হয়। দু’টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ মিটারের ব্যবধান থাকে। কোনও চালক সিগন্যাল লাল হওয়া সত্ত্বেও অমান্য করে প্রাইমারি সিগন্যাল পোস্ট পার করলেই রেড লাইট ভায়োলেশন ক্যামেরাতে তা ধরা পড়বে। এই ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত থাকে অটোমেটিক নম্বরপ্লেট রেকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি। সিগনাল না মানলেই সঙ্গে সঙ্গে আরএলভিডি ক্যামেরায় উঠে যাবে গাড়ির ছবি, নম্বরপ্লেট, লোকেশন। নম্বরপ্লেটটিকে শনাক্ত করবে এএনপিআর প্রযুক্তি। এরপরে অটোমেটিক সিস্টেমের মাধ্যমে লালবাজারের সার্ভারে চলে যাবে নম্বরপ্লেট ও সিগনাল ভঙ্গের সময়ের ছবি। এরপর নম্বরপ্লেটটি যে মোবাইল নম্বরে রেজিস্টার্ড, তাতে চলে যাবে জরিমানার মেসেজ। অর্থাৎ গাড়ির মালিকের মোবাইলে চলে যাবে জরিমানা দেওয়ার মেসেজ। সিননাল না মানার প্রমাণ হিসেবে সেই সময়ের ছবিটিও চলে আসবে গাড়ির মালিকের মোবাইলে। কলকাতা পুলিশের অ্যাপ বা পোর্টাল থেকেই জরিমানার টাকা জমা করতে পারবেন গাড়ি মালিক।