নাম না করেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় সম্পর্কে এবার আপত্তিকর মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন বেলেঘাটায় দলের প্রতিবাদ মিছিলের শেষে মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করেই রাজ্যপালকে 'ব্যাঁকা ও ন্যাকা' বলে আক্রমণ করেন তৃণমূলনেত্রীো। মমতার অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন তোলা হলেও বিজেপি শাসিত  উত্তরপ্রদেশ বা কর্ণাটকের অশান্তির কথা মুখে আনছেন না কেউ কেউ। 
এ দিন বিধান সরণী থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-র প্রতিবাদে মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলের শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়েই তিনি মন্তব্য করেন, '

 নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মাঝে কয়েকদিন বেলাগাম তাণ্ডব চলেছিল রাজ্যের প্রায় সর্বত্র। তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এর পর বাংলা শান্ত হলেও দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটকে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উত্তরপ্রদেশে পুলিশের গুলিতে অন্তত ষোলজনের মৃত্যু হয়েছে বলে এ দিন দাবি করেন মমতা। উত্তরপ্রদেশে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল গেলেও লখনৌ বিমানবন্দরেই তাদের আটকে দেওয়া হয়। অন্যদিকে সোমবারই কলকাতায় এসে মিছিল করে যান বিজেপি-র কার্যকরী সভাপতি জে পি নাড্ডা। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন দাবি করেন, চাইলেই রাজ্য সরকারও এক সেকেন্ডে বিজেপি নেতাদের আটকে দিতে পারত। কিন্তু তাঁরা তা করেননি। 

এই প্রসঙ্গেই নাম না করে রাজ্যপালকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের এখানে আমরা এসব করতে দিই না। এখানে একটা ব্যাঁকা মানুষ আছে। তার থেকে বেশি আমি বলতে চাই না। ব্যাঁকাদেরও আমরা সম্মান করি। ব্যাঁকা এবং ন্যাকা। রোজ বলবে রাজ্যের অবস্থা খারাপ। আমি বলি আগে ইউপি দ্যাখ, তাকা আগে ইউপি-র দিকে। তাকা আগে দিল্লির দিকে। তাকা আগে ব্যাঙ্গালোরের দিকে।'

আরও পড়ুন- বিজেপি-কেই তাড়িয়ে দেবে মানুষ, ঝাড়খণ্ডের ফল দেখে আরও উজ্জীবিত মমতা

ঘটনাচক্রে এ দিনই ফের একবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তাঁকে অপদস্থ হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিনা আমন্ত্রণে উপস্থিত ঘেরাওয়ের মুখে পড়তে হয় রাজ্যপালকে। এর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও কোনও আধিকারিকের দেখা পাননি রাজ্যপাল। অথচ পদাধিকার বলে তিনিই এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে ফের একবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জগদীপ ধনখড়। উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পাশাপাশি পনেরো দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকেও তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসার আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যপাল। 

যদিও মুখ্যমন্ত্রী এ দিন রাজ্যপালের নাম না করলেও তাঁকেই যে নিশানা করেছেন, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অনেক সময়ই অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর সমালোচনাও করা হয়েছে। কিন্তু এ দিন নাম না করেই রাজ্যপালকে নিশানা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তা কতটা গ্রহণযোগ্য সেই প্রশ্ন উঠবেই। এর পরে তাঁর দেখাদেখি দলের অন্যান্য নেতাদের মধ্যেও যে এই রোগ সংক্রমিত হবে না, তারই বা নিশ্চয়তা কি?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল। তার মধ্যে বেশি কিছু বিষয়ে রাজ্যপাল নিজের সীমা ছাড়িয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কখনওই ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি রাজ্যপাল। ফলে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপাল কী জবাব দেন, সেটাই এখন দেখার।