নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে কলকাতায় ফের পথে নামলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। মঙ্গলবার কলেজ স্ট্রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে হেদুয়া পার্ক পর্যন্ত মিছিল করলেন তাঁরা। 

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল গোটা দেশ।  পিছিয়ে নেই পড়ুয়ারাও। দিল্লির জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় হোক কিংবা কলকাতায় প্রেসিডেন্সি-যাদবপুর, সর্বত্রই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। গত শনিবার শহিদ মিনার থেকে বিজেপি রাজ্য সদর দপ্তর পর্যন্ত মিছিলে করেন যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, এসআরএফটিআই-সহ শহরের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা। প্রতিবাদ মিছিল আটকাতে প্রস্তত ছিল বিজেপিও। মিছিল যখন মুরলীধর লেনে দলের সদর দপ্তরের কাছে পৌঁছায়, তখন গেরুয়াশিবিরের যুবকর্মীদের সঙ্গে পড়ুয়াদের হাতাহাতি হওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন পড়ুয়ারা।  ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গিয়ে আহত হন বেশ কয়েকজন। ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। এদিকে আবার জাতীয় পতাকা ও বিপ্লবীদের ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে পাল্টা মিছিল শুরু করেন দেন বিজেপি সমর্থকরা। নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনের স্লোগানও ওঠে। পুলিশের তৎপরতায় শেষপর্যন্ত অবশ্য বড় কোনও অশান্তি হয়নি। পড়ুয়াদের মিছিল এগিয়ে যায় মহাজাতি সদনের দিকে।  ধর্মতলায় মিছিল শেষে অবস্থান বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। গানের মাধ্যমেও চলে প্রতিবাদ। গত বৃহস্পতিবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিলে হেঁটেছিলেন অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন, সোহাগ সেন-এর মতো ব্যক্তিত্বরা। মৌলালির রামলীলা ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত সেই মিছিলেও সামিল হন কয়েক হাজার পড়ুয়া। 

আরও পড়ুন:বিজেপি-কেই তাড়িয়ে দেবে মানুষ, ঝাড়খণ্ডের ফল দেখে আরও উজ্জীবিত মমতা

আরও পড়ুন: বড়দিনের আগের বিকেলে মেট্রো বিভ্রাট, আংশিক বন্ধ পরিষেবা

উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহারের দাবিতে এ রাজ্যে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার উত্তর কলকাতার বিধান সরণী থেকে বেলেঘাটার গান্ধীভবন পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি।