মুখ খুলেও আসল প্রসঙ্গে এড়িয়ে গেলেন মুখ্য়মন্ত্রী। রাজ্য়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে করোনার টেস্টিং কিট থাকা সত্ত্বেও কেন কম পরীক্ষা হচ্ছে অবশেষে তার জবাব দিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে মুখ্য়মন্ত্রী বলেন,রাজ্য়ে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান না থাকার জন্য়ই কম পরীক্ষা করা হয়েছে।

বিরোধীরা তো বটেই খোদ নাইসেড-প্রধানের মুখে শোনা গিয়েছিল কোভিড১৯ টেস্টের সংখ্য়া নিয়ে উষ্মা। নাইসেড প্রধান শান্তা দত্ত জানিয়েছিলেন, অন্যান্য রাজ্য়ের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অনেক কম করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। যা নিয়ে আজ মুখ খোলেন মুখ্য়মন্ত্রী। তিনি বলেন,  প্রথম দিকে রাজ্যে টেস্ট করার একটি কেন্দ্র ছিল। পরে তা বাড়ানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় কম। এখনো সেভাবে টেস্ট করার প্রশিক্ষিত কর্মী  প্রস্তুত হয়নি। তাঁদের প্রশিক্ষণ চলছে। এইসব কারণেই রাজ্য়ে কোভিড১৯-এর পরীক্ষার সংখ্য়া কম। যদিও নাইসেডে কেন কম পরীক্ষার নমুনা পাঠানো হচ্ছে সেই জবাব দেননি মুখ্য়মন্ত্রী। 

করোনা পরীক্ষার জন্য় রাজ্য়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে কিট নেই। অতীতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ  মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। যদিও রাজ্য়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কলেরা অ্যাণ্ড এনটেরিক ডিজিজেস (নাইসেড)-এর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে,মুখ্য়মন্ত্রী বক্তব্য় ঠিক নয়। প্রথম থেকেই তাদের কাছে পর্যপ্ত পরিমাণ করোনা পরীক্ষার কিট রয়েছে। যদিও নিত্য়দিন কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষার কম নমুনা পাঠাচ্ছে রাজ্য়ের স্বাস্থ্য় দফতর।  

করোনার কিট নিয়ে অতীতে মুখ্য়মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্য়ে কথা বলার অভিযোগ এনেছিলেন বিজেপির আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। তথ্য় পরিসংখ্য়ান দিয়ে বাবুল দেখিয়ে দিয়েছিলেন, রাজ্য় সরকারকে পর্যাপ্ত পরিমাণ করোনার কিট দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ ব্যবহারই করা হচ্ছে না। এবার সেই একই সুর শোনা গেল নাইসেড-এর প্রধান সান্তা দত্তের কথায়। একটি জাতীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংস্থার বিভাগীয় প্রধান বলেন, আমাদের কাছে ২৭,৫০০ করোনা পরীক্ষার সরঞ্জাম রয়েছে। কোনওদিনই এই কিটের ঘাটতি হয়নি। যেহেতু স্বাস্থ্য়ের বিষয়টা রাজ্য় সরকারের  হাতে, তাই তারাই বলতে পারবেন কেন কম পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেনি নাইসেড-এর প্রধান। তাঁর দাবি, প্রথম প্রথম করোনা পরীক্ষায় প্রতিদন ৮০-৯০টি নমুনা পাঠানো হত নাইসেড-এর কাছে। কিন্তু বিগত দিনে তা  খুব কমে এসেছে। তিনি জানান, দিন তিনেক আগেও তাঁর কাছে ১৮টি সোয়াব টেস্টের জন্য় এসেছে। এমনকী কোনওদিন মাত্র ৯টি নমুনা পরীক্ষা করেছে নাইসেড। যেখানে সারা দেশ জানে ভাইরাস রিসার্চ ডাইগনস্টিক ল্যাব হওয়ার দরুণ পূর্ব ভারতে সবথেকে বড় পরিকাঠামো রয়েছে নাইসেড-এর। সেক্ষেত্রে অন্য়ান্য় মেডিক্য়াল কলেজের থেকে নাইসেড-এ লোকবল অনেক বেশি।  

অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যের হাতে করোনা টেস্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিমাণ যথেষ্ট নেই। শান্তা দত্ত বলেন এখনও পর্যন্ত ৪২,৫০০টি টেস্ট কিট এনআইসিইডি-র হাতে এসে পৌঁছেছে। এখনও ২৭,৫০০  কিট তাদের সংগ্রহে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, রাজ্য়ে করোনা পরীক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভিযোগ,করোনার মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার যথেষ্ট কড়া নয়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। শনিবারই সেই চিঠি হাতে আসে রাজ্য়ের।