পোস্টাল ব্য়ালটে সরকারি কর্মীরা বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ওপর খুশি নন। ৩৯ টি কেন্দ্রেই ভোট পড়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। আলিপুরদুয়ারে পোস্টাল ব্যালটে বিজেপি ভোট পেয়েছে   ৩০১৬টি, তৃণমূল ভোট পেয়েছে ৯৩০টি।  আরামবাগে বিজেপির ভোট  এসেছে ১০৩২টি , তৃণমূল ভোট পেয়েছে ৩১৬টি। বিরাট ভোটের পার্থক্য পুরুলিয়াতেও । সেখানে বিজেপি ভোট পেয়েছে ২০৯১টি, তৃণমূল ৫৯০টি।  ভোটপার্থক্য চোখে পড়ার মতো বিষ্ণুপুরেও।    সেখানে বিজেপি পেয়েছে  ২১১৫ টি ভোট আর তৃণমূল পেয়েছে ৪১২টি ভোট। শুধু রায়গঞ্জ, দক্ষিণ কলকাতা মান রেখেছে। 
 

বিপদের গন্ধ পেয়ে শুরু হয়েছে কারণ খোঁজা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখতে পেয়েছেন, কর্মীদের মধ্যে তৃণমূল স্তরে সংগঠন না থাকাটা অনেক সময় ফায়দা দিচ্ছে বিরোধীদের।  ডিএ নিয়ে ক্ষোভও গভীর ক্ষত তৈরি করছে। ক্ষত মোকাবিলায় নেমে মমতা ইতিমধ্যেই অ্যাডহক বোনাস ঘোষণা করেছেন নীচুতলার কর্মীদের জন্যে। এবার নিজের তৈরি নিয়মই বদলে ফেললেন।

২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, বন্ধ করতে হবে বহু সরকারি দফতরের ইউনিয়ন। সেই নিয়মেই এবার রদবদল ঘটতে চলেছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে দমকল, কারা, শুল্ক বিভাগে সংগঠন গড়া হবে। লক্ষ্য একটাই কর্মচারীদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক পুনরায় চাঙ্গা করা, ভাঙন রোখা।

কুকুরের 'ঘেউ ঘেউ', কামারের এক ঘা, মমতাকে বুঝিয়ে দিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের ভোট

এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী  সাংবাদিকদের বলেন, 'তৃণমূল স্তরে কাজ করবে এই সংগঠন। তৃণমূলের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে এই সংগঠন। শুধু পুলিশেই এই সংগঠন থাকছে না।'

অতীতে নিজেই বাম সংগঠনগুলির শক্তি খর্ব করতে সরকারি দফতরগুলি থেকে সংগঠন তুলে দিতে চেয়েছিলেন মমতা। কিন্তু বিপদের দিনে তাঁর হাতে সরকারি কর্মচারীদের মন পেতে সংগঠন তৈরির চেয়ে বড় কোনও রাস্তা নেই। নেতা তৈরির কাজেও খানিকটা সুরাহা হবে সংগঠন থাকলে। ভাঙন এড়াতে মমতার এই দাওয়াই কতটা কাজে আসে সেটাই দেখার।