হাথরস ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে গর্জে উঠলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরপ্রদেশের নৃশংস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম থেকেই বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেত্রী। যোগী রাজ্যের ধর্ষণকাণ্ডে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করলেন 'বিজেপি দেশের সবচেয়ে বড় মহামারি। সব কিছু শেষ করে দিচ্ছে'। অন্যদিকে, লকডাউনের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য বিভ্রান্তি নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন-নির্ঘন্ট প্রকাশের পর বিহার ভোটের প্রচারে পিছিয়ে পড়লেন সুশান্ত

উত্তরপ্রদেশের হাথরসে নির্যাতিতাকে গণধর্ষণ পরে খুন করে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকেই প্রতিবাদে সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল উত্তরপ্রদেশে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া এবং হেনস্তার অভিযোগ ওঠে যোগীর পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ শহিদ মিনারের সভায় তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বললেন, ''কোনও রাজনৈতিক দলকে উত্তরপ্রদেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদেরও আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে শুনেছি। ভোটের সময় এলে বড়বড় কথা বলে বিজেপি। ভোট শেষ হলেই দলিত, নমঃশুদ্রদের উপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ভোটের সময় এঁরা হোটেল থেকে খাবার এনে দলিতদের বাড়িতে বসে খায়। ওঁরা সকলের পদবি নিয়ে খেলা করছে''।

আরও পড়ুন-রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন, দেখুন কাঁথি শহরের জলছবি

হাথরস ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ''সিঙ্গুরের নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে আমি ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। আজও এই ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে বাংলা জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন চলবে। পাড়ায় পাড়ায় ,ব্লকে ব্লকে পোস্টারিং করবে তৃণমূল। গ্রামে গ্রামে আদিবাসী, তপশিলি পরিবারের কাছে গিয়ে হাথরসের নৃশংস ঘটনার কথা জানাবে তৃণমূল''।  আরও পড়ুন-কুলতলিতে ফের বাঘের আতঙ্ক, লাঠি হাতে রাত পাহারায় গ্রামবাসীরা

পাশাপাশি, শহিদ মিনারের সভায় দাঁড়িয়ে পরিযায়ী শ্রমিক ও লকডাউন এবং কৃষি আইন নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, ''পরিযায়ী শ্রমিক, ব্যবসায়ীরা কাঁদছে। লকডাউনে কত লোকের চাকরি গেল। পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিসংখ্যান তথ্য পর্যন্ত রাখেনি কেন্দ্রীয় সরকার। বলছে সব তথ্য নাকি বাংলার কাছে আসে। নতুন কৃষি আইন বলবত করে কৃষকদের ভাতে মারার চেষ্টা করছে। অতিমারির জন্য আমরা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করছি না। অথচ, বিজেপি কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করেই মিটিং-মিছিল করছে। দেশের সবচেয়ে বড় মহামারি হল বিজেপি। এরাই গোটা দেশে দুর্ভিক্ষ আনছে''।

তিনি আরও বলেন, ''বাংলায় ছোট ছোট বিষয়ে পাঁচবার করে কমিশন পাঠায় কেন্দ্র। অথচ উত্তরপ্রদেশে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। আজ দেখা করতে না দিলেও একদিন তো দেখা করবই। সময় একদিন বা একদিন আসবে''। হাথরস কাণ্ডের প্রতিবাদে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম থেকে শহিদ মিনার পর্যন্ত পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী।