প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের দিনই নেতাজি নিয়ে টুইট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনার পর কি হয়েছিল, তা জানতে মোদী সরকারের ওপর চাপ বাড়ালেন মমতা। যার জেরে রাজীব কুমার নিয়ে 'ব্যাকফুটে' থাকা মুখ্যমন্ত্রী এবার 'ফ্রন্টফুটে'।  

একেবারে মাস্টারস্ট্রোক। রাজীব কুমার নিয়ে কোনঠাসা মুখ্য়মন্ত্রী চলে এলেন রাজনীতির প্রথম সারিতে। এতদিন মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলতেই মমতাকে কাঠগড়ায তুলেছিল বিজেপি ব্রিগেড। প্রকাশ্য়েই মমতার নাম করে রাজীব নিয়ে খোঁচা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরে তিনি বলেন, মমতার বাড়িতেই লুকিয়ে রয়েছেন রাজীব কুমার। কান টানলে মাথা আসে। এখন তাই কলকাতা থেকে মোদীর কাছে যাচ্ছেন মমতা। একই কথা শোনা যায় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মুখে। রাজ্যে বি়জেপির সেবা সপ্তাহে এসে কৈলাস বলেন, এতদিন নীতি আয়োগ, মুখ্য়মন্ত্রীদের বৈঠকে ডাকলেও মমতা যেতেন না। রাতারাতি এমন কী হল, যে নিজেই মোদীর সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রাজীব কুমারের পলায়নের সঙ্গে মমতার নাম জুড়ে দিচ্ছে মানুষ।

তবে বিকেলে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের আগেই টুইটে প্রধানমন্ত্রীকে চাপে রাখলেন মমতা। এদিন টুইটারে মমতা লেখেন, ২০১৫ সালে আজকের দিনেই বাংলার সরকার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিষয়ে কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হেফাজতে থাকা ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করেছে। তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনার পর কি হয়েছিল? মানুষের সেই সত্য জানার অধিকার আছে। দিল্লির রাজনীতিক মহল মনে করছে, মমতার নেতাজি নিয়ে প্রশ্নে চাপে থাকবে মোদী সরকার। নেতাজি নিয়ে বাংলার যে ভাবাবেগ তা ভালো করেই জানেন প্রধানমন্ত্রী। তাই দিল্লি মমতাকে চাপে রাখলে যে নেতাজি ইস্য়ু নিয়ে বাড়িবাড়ি হবে তার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মমতা। মুখ্য়মন্ত্রীর টুইট বার্তাই তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। মূলত, রাজ্য নেতাজি নিয়ে ফাইল প্রকাশ করলেও কেন্দ্র তার কাজ করছে না বলেতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী। 

কেউ কথা রাখেনি, উরি-তে শহিদ বিশ্বজিৎ-এর পরিবারের এক সত্য কাহিনি

একাদশ শ্রেণির সুপর্ণার হাতে রূপ পেল বিশ্বকর্মা

মঙ্গলবার দিল্লি যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যে যে অর্থ পাওনা রয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হবে তাঁর। রাজ্যের নতুন নামকরণ নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া, বিএসএনএল-এর মতো বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণ নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হবে তাাঁর।  প্রায় দেড় বছর পর বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লোকসভা নির্বাচনের পরে এই প্রথম নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে প্রধানমন্ত্রীর।