নারদ কাণ্ডে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। তারই প্রতিবাদে নিউটাউনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুতুল দাহ করল তৃণমুল কর্মী সমর্থকরা। পাশাপাশি রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমুল। একই ভাবে এদিন বিক্ষোভ দেখানো হয় বেলঘরিয়া রথতলা মোড়ে। 

নারদ কাণ্ডে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। তারই প্রতিবাদে নিউটাউনের ঘুনিতে রাস্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশ পুতুল দাহ করে তৃণমুল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা। দেওয়া হয় বিজেপি বিরোধী শ্লোগান। এদিন তৃণমূলের নেতা কর্মীরা বলে প্রতিশোধের রাজনীতি করছে বিজেপি। এভাবে বাংলায় তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। 

নিউটাউনের রাস্তায় এদিন টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এই বিক্ষোভ প্রতিবাদে সামিল হন রাজারহাট নিউটাউন তৃণমুল যুব কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ আফতাব উদ্দিন। তাঁর নেতৃত্বেই বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।

সোমবার মদন মিত্রের গ্রেফতারির খবরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে কামারহাটিতেও। কামারহাটি রথতলার মোড়ে  বিধায়ক মদন মিত্র গ্রেফতারের প্রতিবাদে বি.টি রোড অবরোধ করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। পোস্টার হাতে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। এরপর গাড়ি আটকে কামারহাটি পৌরসভার সামনে রাস্তার উপরে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। এদিন বিক্ষোভ দেখানোর আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগ দাবি করা হয়। রাজ্যপালকে বিজেপির দালাল বলে শ্লোগান তোলা হয়। 

প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল থেকেই ঝড় উঠল রাজ্য রাজনীতিতে। সিবিআইয়ের আধিকারিকদের হাতে গ্রেফতার তৃণমূলের তাবড় তিন মুখ, গ্রেফতার বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে আসা শোভন চট্টোপাধ্যায়। গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রের মত নেতাকে। এদিকে, এই গ্রেফতারির সঙ্গে সঙ্গে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে সল্টলেকে সিবিআইয়ের দফতর সিজিও কমপ্লেক্সে। 

২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে নারদের স্টিং অপারেশনের মুখে শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী-সাংসদকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল। সেই ভিডিও দেখেছিল সারা পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশ। এবং যার বড়সড় প্রভাব পড়েছিল রাজ্য-রাজনীতিতে। 

সিবিআই সূত্রে খবর, যে সময়ে এই মামলা শুরু হয়েছিল, তখন সাংসদ ছিলেন শুভেন্দু। তাই তাঁর ক্ষেত্রে অনুমোদন দেবেন লোকসভার অধ্যক্ষ। উল্লেখ্য, নারদামামলায় অভিযুক্ত তৎকালীন ৪ বিধায়কের বিরুদ্ধে সিবিআইকে চার্জশিট পেশ করার অনুমতি দিয়েছেন রাজ্যপাল। এই চার নেতা হলেন ববি হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়। এদের মধ্যে প্রথম তিন জন আবার নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। প্রথম তিনজনই তৃণমূলের। কিন্তু পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। প্রার্থী না করায় বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেন শোভন।