হাথরসে ঢুকতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে। যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও উত্তরপ্রদেশের এই ঘটানা নিয়ে পাল্টা তৃণণূলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়।  তাঁর দাবি বাংলায়ও আকছার এমনই ঘটনা মানুষ দেখতে পায়।

এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে মুকুল রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কোথাও শাসক দল বাদে কোনও রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করতে গেলে কীভাবে আটকানো হয়, তা সবার অজানা নয়। এদিকে শুক্রবার হাথরাসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ডেরেক ও 'ব্রায়েনের নেতৃত্বাধীন দলকে আটকানো হয়। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ডেরেককে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংসদ।   

একই অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তার অভিযোগ, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে মহিলা পুলিশকর্মীরা থাদের জামা কাপড় ধরে টানে। এমনকী সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এই ঘটনাটা খুবই লজ্জাজনক।

এদিকে ,হাথরস কাণ্ডের প্রতিবাদে কলকাতার রাজপথে বিড়লা প্ল্য়ানেটোরিয়াম থেকে শহিদ মিনার পর্যন্ত মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরপ্রদেশে ধর্ষণকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। গোটা বাংলা জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলকে আন্দোলনে নামার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এই অবস্থায় মমতার এই প্রতিবাদ সভাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্য়ায়।

শনিবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকে কৃষি আইনের সমর্থনে মিছিল করেন লকেট। দাঁইহাট হাউসিং থেকে মাখালতোড় পর্যন্ত মিছিল করেন বিজেপি নেত্রী। সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন লকেট। বললেন,''মুখ্যমন্ত্রীর হিম্মত থাকলে কামদুনি, জলপাইগুড়ি ধর্ষিতার বাড়ির সামনে মিছিল করে দেখাক। তাহলে বুঝব মহিলারা ওনার পাশে আছেন''। হুঁশিয়ারী লকেটের।

লকেটের অভিযোগ, ''লকডাউনের সময় বাংলায় ১৫ জনকে ধর্ষণ করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও দোষী শাস্তি পায়নি। উত্তরপ্রদেশে ধর্ষিতা হলে দোষীর শাস্তির দাবিতে কলকাতায় মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। অথচ, নিজেদের রাজ্যে কেউ ধর্ষিতা হলে, তাঁর কী দোষ আছে, সে চরিত্রহীনা কিনা খুঁজে বের করা হয়''।