খুন নাকি দুর্ঘটনা এই দ্বন্ধেই ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ট্যাংরার পরিস্থিতি। রহস্য় লুকিয়ে রয়েছে ৪ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে। ট্যাংরার গোবিন্দ খটিক রোডে এক গৃহবধূকে জোর করে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার চেষ্টা এবং তা রুখতে গিয়ে প্রৌঢ় শ্বশুরকে পিষে মারার অভিযোগের সূত্র লুকিয়ে আছে ওই চার সেকেন্ডেই। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বৃহস্পতিবারই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগের হাতে। 

আরও পড়ুন, প্রতিবাদের মূলই অস্ত্রই কাগজ-কলম-বই, কলকাতা বইমেলাতে সিএএ নিয়ে সরব স্বরা

 প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই মনে করছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। ট্যাংরার বাসিন্দা ওই গৃহবধূ যে অভিযোগ করেছেন, তা নিয়ে নিশ্চিত হতে ওই চার সেকেন্ডের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের মাঝে ঠিক কী হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা। রাত ১১টা ৫৩ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড পর্যন্ত হইচইয়ের কোনও চিহ্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েনি। রাত ১১টা ৫৩ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে উল্টোদিক থেকে দ্রুত গতিতে একটি অ্যাম্বুল্যান্সকে বেরিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। তারপর ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন অ্যাম্বুল্যান্সের পিছনে ছুটছেন। তার মধ্যে ওই গৃহবধূও রয়েছেন। তবে সেখানে কাউকে অ্যাম্বুল্যান্সটি ধাক্কা দিচ্ছে, এমন ছবি ধরা পড়েনি। কাউকে অ্যাম্বুল্যান্সটি ছেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে,সেই দৃশ্যও ধরা পড়েনি ।

আরও পড়ুন, ফের গুগলি শীতের, সপ্তাহান্তে ফিরছে ঠান্ডা, রবিবার থেকে ফের নামবে তাপমাত্রা

 ট্যাংরার গোবিন্দ খটিক লেনের বাসিন্দাদের দাবি, ঘুষ নিয়ে খুনের মামলাকে দুর্ঘটনা বলে চালাচ্ছে পুলিশ। বাসিন্দাদের দাবি, যদি ঘুষ নিয়েই তদন্ত করা হবে তাহলে তাঁরাও ঘুষ দিতে তৈরি। আর তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাতে টাকা নিয়ে পথ অবরোধ করেছিলেন বাসিন্দারা। অভিযুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও আর একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে পুত্রবধূর অপহরণ ঠেকাতে গিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কায় মৃত্যু হয় গোপাল প্রামাণিকের। অভিযুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স চালক ও আর একজনকে গ্রেফতার করলেও তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর এই ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ট্যাংরার পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ,  ঘুষ নিয়ে অপহরণ ও খুনের ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে চালাতে চাইছে পুলিশ। তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোবিন্দ খটিক লেনের বাসিন্দারা হাতে টাকা নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন। ফেলে দেওয়া হয় রাস্তায় জলের ড্রাম।