শব্দ দূষণ প্রতিরোধে অবিলম্বে ডিসিপি পদমর্যাদার অফিসার নিয়োগের নির্দেশ। আর এই নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যাল বা এনজিটি। পরিবেশ সুভাষ দত্তের করা এক মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন, মামলা নিয়ে আলোচনাার সময় রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে ট্রাইবুন্যাল। দূষণ প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলো ঠিক করে কাজ করছে না বলেও মন্তব্য করেছে ট্রাইবুন্যাল। 

এনজিটি জানিয়েছে, এই ডিসিপি পদপর্যাদা অফিসারের কাজ-ই হবে শব্দ দূষণ নিয়ে কাজ করা। তিনি কলকাতা ও হাওড়ার জন্য একজন করে ডিসি অথবা পুলিশ সুপার নিয়োগ করবেন। যারা সমস্ত থানার সঙ্গে শব্দ দূষণ নিয়ে যোগাযোগ রাখবে। তথ্য সংগৃহীত করবে। এমনকী দূষণ প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের যে সংস্থাগুলি কাজ করে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে চলবে। শব্দ দূষণ-এর বিধি বলবৎ রাখতে পুলিশের কিছু অত্যানুধিক সরঞ্জাম প্রয়োজন। সে সব জিনিসের খোঁজও যেমন এই ডিসি বা এসপি-কে রাখতে হবে, তেমনি শব্দ দূষণের বিধি ভাঙলে লাইসেন্স বাতিল থেকে শুরু করে আইনি ব্য়বস্থা এবং জরিমানা আদায়ের বিষয়গুলি-তে সমন্বয় সাধন করতে হবে। 

২০২০ সালের ১০ জানুয়ারির মধ্যে শব্দ দূষণ নিয়ে নির্দেশ কতটা কার্যকর হল তার রিপোর্ট এনজিটি-র কাছে জমা করতে হবে। এই নিয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখে আলোচনা করবে এনজিটি। পরিবেশ সুভাষ দত্ত জানিয়েছেন, শব্দ দূষণ নিয়ে একাধিক নির্দেশ বের হয়েছে কিন্তু কাজের কিছুই হয়নি। মাইক এখনও দৌরাত্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের বেঁধে দেওয়া ডেসিবেল-কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে মাইক। দিনে তো এমন ঘটনা ঘটছে তার সঙ্গে সন্ধে ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে মাইক ব্যবহারের যে বিধি বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তাও মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সুভাষ দত্ত। 

রাজ্য সরকার এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যে কোনওভাবেই সফল নয়, তাও এদিন জানিয়ে দিয়েছে এনজিটি। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র-ও শুক্রবার দূষণ মোকাবিলায় ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, মানব সম্পদের অভাবের জন্য এমনটা হয়েছে। তাঁর দাবি, দূষণ প্রতিরোধে এবং শব্দ দূষণ নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সেই নজরদারির জন্য কর্মীর অভাব থাকায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। 

শব্দ দূষণ নিয়ে এর আগে ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যাল জানিয়েছিল রাজ্য সরকার নামমাত্র কাজ ছাড়া আর কিছুই করেনি। এরপর ২০১৭ সালের ৩ মে পরিবেশ দপ্তর থেকে একটি নির্দেশে বলে অডিও সিস্টেম, মাইক বা লাউডস্পিকার তৈরির সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করতে। এই সংস্থাগুলি যাতে মাইক বা লাউডস্পিকার তৈরিতে শব্দ বিধি মেনে চলে তা বলবৎ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৮ এপ্রিল, ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার জানিয়ে দেয় সাইলেন্ট জোনে এয়ার কোয়ালিটি যাতে সহ্যসীমার মধ্যে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ২০১৭ সালের-ই ২৩ মে এক নির্দেশে ওয়েবেল মিডিয়াট্রোনিক্স-এর তৈরি শব্দ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র প্রতিটি মাইক,  লাউডস্পিকার বা অডিও সিস্টেমে ব্যবহার করাটা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। নচেৎ এনভায়রনমেন্ট (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট ১৯৮৬ এবং শব্দ (দূষণ এবং নিয়ন্ত্রণ )নিয়ম, ২০০০-এর নিয়ম মেনে জরিমানা করা হবে। এতকিছুতে আদৌ যে কাজের কিছু হয়নি তা এনজিটি-র নয়া নির্দেশেই স্পষ্ট।