আন্দোলন থেকে এখনই সরছেন না। তবে ২৩ দিন অনশন চালানোর পর শেষপর্যন্ত আলোচনায় বসতে চেয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হোক, সেটা তাঁরাও চান না। নৈতিক খাতিরে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। এদিকে শনিবার সল্টেলেকের ডিরোজিও ভবনে এক অনুষ্ঠানে অনশন প্রত্যাহার করে ফের পার্শ্বশিক্ষকদের আলোচনার বসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।

এ রাজ্যে সরকারি ও সরকারি অনুমোদিত স্কুলের পার্শ্বশিক্ষকের সংখ্যা  কম নয়। বেতন কাঠামো চালু-সহ চার দফা দাবিতে অনশনে বসেছেন রাজ্যের কয়েক হাজার পার্শ্বশিক্ষক। ২৩ দিন ধরে অনশন চলছে সল্টেলেকে সেন্ট্রাল পার্কের খেলার মাঠে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি।  দিন কয়েক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরে এক পার্শ্বশিক্ষকের মৃত্যুতে বিস্তর জলঘোলাও হয়।  আন্দোলনকারীদের দাবি, যিনি মারা গিয়েছেন, তিনিও সল্টলেকে অনশনে করছিলেন। অনশন চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওই পার্শ্বশিক্ষককে বাড়ি নিয়ে চলে যান পরিবারের লোকেরা। অনশনজনিত অসুস্থতার কারণেই মারা গিয়েছেন তিনি।  মৃতের পরিবারের পাল্টা দাবি, অনশনের কারণে নয়. দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন তিনি। তবে কারণ যাই হোক না কেন, পশ্চিম মেদিনীপুরে পার্শ্বশিক্ষকদের মৃত্যু পরই  সংসদের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন রাজ্যের দুই বিজেপি সাংসদল লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বাবুল সুপ্রিয়। অচলাবস্থা কাটাতে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকেই আলোচনার বসার আহ্বান জানান রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়ও।

রাজ্য সরকারের তরফে কিন্তু এখনও পর্যন্ত আন্দোলরত পার্শ্বশিক্ষকদের কোনও ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়নি। বরং, কেন দীর্ঘদিন ধরে কেন তাঁরা স্কুলের অনুপস্থিত, তা জানতে চেয়ে আন্দোলনকারীদের শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে ছেলেমেয়ে পড়াশোনার ক্ষতি হবে, তা কোনওভাবে বরদাস্ত করা হবে না।  ঘটনাচক্রে শিক্ষাদপ্তর শোকজ করার পরে সুর নরম করলেন আন্দোলনরত পাশ্বশিক্ষকেরা।  আলোচনায় বসতে চেয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন তাঁরা। 

আরও পড়ুন:রক্সির নীচে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ কেন, দু'সপ্তাহের মধ্যে নোটিশ দিতে হবে কলকাতা পুরসভাকে

শনিবার সল্টলেকের ডিরোজিও ভবনে আগামী বছর মাধ্যমিক স্টেট-পেপার প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের হাতে নতুন টেস্ট পেপারও তুলে দেন তিনি।  যথারীতি পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন ছেড়ে আলোচনার বসার আহ্বানও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, 'যাঁর কাছে অভিযোগ জানাবেন, তাঁর বিরুদ্ধে আবার আন্দোলন করবেন, এটা চলতে পারে না। আমি মন থেকে মেনে নিতে পারছি না যে, শিক্ষকরা রাস্তায় বসে আছেন। ' পার্শ্বশিক্ষকরা তো আলোচনায় বসতে চেয়েছেন, এখন দেখা যাক অচলাবস্থা কাটে কিনা।