বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বৈশাখীকে পাল্টা জবাব দিয়ে তাঁর কটাক্ষ, বৈশাখীর উপর নজরদারি করার মতো সময় মুখ্যমন্ত্রীর নেই। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে নিজের কলেজে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মানসিক হেনস্থা করা বলে অভিযোগ করে এ দিন মিল্লি আল আমিন কলেজের টিচার ইন চার্জ এবং অধ্যাপিকার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে নিজের কলেজে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মানসিক হেনস্থা করা বলে অভিযোগ করে এ দিন মিল্লি আল আমিন কলেজের টিচার ইন চার্জ এবং অধ্যাপিকার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গত ২৩ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে এসে বোঝানোর পরেও শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলে না ফেরাতেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। কলেজে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে ভিডিও আপলোড করছেন তাঁরই কলেজের সহকর্মী। পুরোটাই শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বৈশাখী। আর এসব কিছুর নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রী আছেন বলেও শোভনের পাশে বসেই অভিযোগ করেন তাঁর বান্ধবী। 

আরও পড়ুন- কান্নায় ভেঙে পড়ে ইস্তফা বৈশাখীর, শোভনকে পাশে বসিয়েই নিশানা মমতাকে, দেখুন ভিডিও

এর পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে পার্থবাবু বৈশাখীকে পরামর্শ দিয়ে আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বড় দাদা হিসেবে। পার্থবাবু বলেন, 'শোভনের কাছে আমি শিক্ষামন্ত্রী হিসেহে নয়, ওর বড় দাদা হিসেবে গিয়েছিলাম। দলে ফেরার আবার কী আছে, শোভন তো দলেই আছে। আমি শুধু ওকে সক্রিয় হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রাজনীতি করেছি, সেই জায়গা থেকেই ওর বাড়িতে যাওয়া। ফের সক্রিয়ভাবে দলের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য কোনও শর্ত দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ও যদি না চায়, তাহলে আর যাব না।'বৈশাখীর পাশে বসে কলকাতার প্রাক্তন মেয়রও অবশ্য এ দিন অভিযোগ করেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বলে গিয়েছিলেন, তিনি দলে ফিরলে কলেজে বৈশাখীদেবীর কোনও সমস্যা হবে না। 

পার্থবাবু পাল্টা দাবি করেন, মিল্লি আল আমিন কলেজের সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে বৈশাখীর মতামতকেই সবসময় সমর্থন করে এসেছে উচ্চশিক্ষা দফতর। সহকর্মীর বিরুদ্ধে বৈশাখী যে অভিযোগ এনেছেন, তাঁর কাছে সেই বিষয় নিয়ে এলে তিনি তা যথাযথভাবে খতিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বস্ত করেন পার্থবাবু। 

শিক্ষামন্ত্রী এ দিন স্বীকার করে নেন, তিনি ছাড়াও দলের তরফে অনেকেই একই অনুরোধ নিয়ে শোভনের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেহেতু শিক্ষা দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন এবং বৈশাখীও ওই দফতরের সঙ্গে যুক্ত, তাই তাঁর নাম এসবের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পার্থবাবু দাবি করেন, তাঁরা চান বৈশাখীদেবীই ওই কলেজের দায়িত্বে থাকুন। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন। তার জবাব দিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'ঠান্ডা মাথায় বিচার করে দেখুন কে কার স্বার্থে কী করছে। মুখ্যমন্ত্রীর এত সময় নেই যে একজন অধ্যাপিকার উপরে নজরদারি করবেন। এসব বললে মুখ্যমন্ত্রীরই অসম্মান করা হয়।'