রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেও বিধানসভায় পাশ হয়নি সিএএ বিরোধী বিল। পঞ্জাব সরকার এই বিল পাশ করার পরই মমতা সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিরোধীরা। প্রশ্ন শুনে কী বললেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ?

অনুপ্রবেশ রাজ্য়ের সমস্য়া, মানলেন সাহিত্য়িক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বিরোধীদের প্রশ্নবান শুনে পার্থবাবু বলেন, 'এনআরসি ও সিএএ নিয়ে আমরা অনেক আগে বিরোধিতা করেছি। পঞ্জাব আজ করছে ঠিক আছে। কিন্তু আমরা এখানেও সিএএ করতে দেব না। তাতে যা যা করতে হয় সব করব।' এই বলেই থেমে থাকেননি শিক্ষামন্ত্রী। এ বিষয়ে বিরোধীদেরও একহাত নিয়েছেন তিনি।  পার্থবাবু বলেন, 'বিধানসভাতেও আমরাই প্রথম এই বিষয়ে রেজলুশন এনেছিলাম। বাম কংগ্রেস ঘোলা জলে মাছ ধরছে। আমাদের ছাড়া কি ওরা এটা পাস করতে পারবে ? যেই দেখেছে  এনআরসি বেশি চলছে ,সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের কম্পিটিশন চলছে। '

বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার নিদান দিয়ে এবার নিউইয়র্ক টাইমসের পাতায় 'উজ্জ্বল' দিলীপ

সম্প্রতি সিএএ, এনআরসি নিয়ে বিরোধিতায় নামে তৃণমূল কংগ্রেস। ভিন রাজ্য়েও পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধি। এই বিষয়ে বিরোধীদের খোঁচা দিতে ছাড়েননি  শাসক দলের মহাসচিব। তিনি  বলেন, যখন সিএএ নিয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় প্রথম বিরোধিতা করেছিল কেউ তো আসেননি। বিরোধিতার জন্য় প্রতিনিধি পাঠাননি। বিমানবন্দরে আমাদের প্রতিনিধিরা  হেনস্থা হল, তখন তো কেউ মুখ খোলেননি। সবাই মিলে আন্দোলন সবাই করেছে করুক, কিন্তু লক্ষ্য যেন থাকে বিজেপির ধ্বংসাত্বক বিল পাশ করতে দেব না।

সম্প্রতি ফের রাজ্য় বিজেপির সভাপতি পদে নিয়োগ করা  হয়েছে দিলীপ ঘোষ। পদে এসেই ফের তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। যা প্রসঙ্গে পার্থবাবু বলেন, সবে সভাপতি হয়েছে এখন অনেক গরম গরম কথা বলবে কর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য। তবে একানেই থেমে থাকেনি তৃণমূল মহাসচিবের বাক্য়বান। সারদা ও রোজভেলি মামলার চার্জশিট নিয়েও এদিন মুখ খোলেন তিনি। পার্থবাবু বলেন, এটা উদেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূল-এর নেতা নেত্রীদের উপরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেওয়ার জন্য বিজেপি  সিবিআই  ও ইডি-কে ব্যবহার করছে।

দলে এখনও 'ফরেন বডি',মুকুলকে নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বিজেপিতে

রাজ্য রাজনীতিতে  দিলীপ ঘোষ ও রাজ্যপালকে নিয়ে অতীতে একাধিক মন্তব্য়  করেছেন পার্থবাবু। তবে  এদের বিষয়ে আর মুখ খুলবেন না বলে মন্তব্য় করেছেন পার্থ। তিনি বলেন, 'অনেক কাজ বাকি আছে আপনারা একবার আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন,আবার দিলীপবাবু রাজ্যপালকে জিজ্ঞাসা করবেন, এসব আর হবে না কারণ আমি আর উত্তর দেব না। রাজ্যের অনেক কাজ বাকি আছে।'

শুক্রবারই পঞ্জাব বিধানসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব বিরোধী বিল। যার পর থেকে রাজ্য়ে সিএএ বিরোধিতায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদের একাংশ। সবার মুখেই এক প্রশ্ন। সিএএ নিয়ে রাস্তায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পদযাত্রা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওমতেই রাজ্য়ে সিএএ লাগু হতে দেবেন না বলেছেন তিনি। কিন্তু কেরল, পঞ্জাব বিধানসভায় সিএএ বিরোধী বিল পাশ করলেও রাজ্য়ে তা করা হয়নি। এই নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বামেরা। সবার মুখে এক কথা, তবে কি সিএএ নিয়ে মোদীভাই -দিদিভাই সেটিং হয়ে গেছে।  

সিএএ নিয়ে পঞ্জাবের  মুখ্য়মন্ত্রী ক্য়াপ্টেন অমরিন্দর সিং বলেছেন, প্রতিটি রাজ্য় থেকে বিরোধিতা করে এই আওয়াজ দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। যাতে বাধ্য় হয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিল করতে বাধ্য় হয়। রাস্তায় নেমে বিরোধিতার পাশাপাশি বিধানসভায় এই সিএএ বিরোধী বিল তাই পা করানো হয়েছে।