রুশি পাঁজা:  আমফানের ত্রাণ বণ্টনে 'দুর্নীতি' নিয়ে বিড়ম্বনা আরও বাড়ল সরকারের। মামলা এবার গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। সুবিচারের আর্জি জানিয়ে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন এক কৃষক। মামলার শুনানি হতে পারে আগামী সপ্তাহে।

আরও পড়ুন: করোনা আবহে চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যু, বাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার করল পুলিশ

গত মে'র মাঝামাঝিতে রাজ্যে আছড়ে পড়ে আমফান ঘূর্ণিঝড়। ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছিল দুই চব্বিশ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে আকাশপথে বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, ত্রাণ ও পুনর্বাসন খাতে প্রাথমিকভাবে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও করে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই টাকা গেল কোথায়? হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন খায়রুল আনম শেখ নামে এক কৃষক। দক্ষিণ ২৪ পরগণার কাকদ্বীপের বাসিন্দা তিনি। 

আরও পড়ুন: শহরে ভ্য়াপসা গরমে হাঁসফাস অবস্থা, ওদিকে বৃষ্টিতে একাকার পুরো উত্তরবঙ্গ

মামলাকারীর দাবি, ঘুর্ণিঝড়ে তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে দুই ২৪ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুরে। ক্ষতি হয়েছে চাষের জমি, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন বহু মানুষ। কিন্তু প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও ত্রাণ মেলেনি। এমনকী, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, হিঙ্গলগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত এলাকা ত্রাণের জন্য বরাদ্দ টাকা পৌঁছয়নি বিডিওদের কাছেও! বহু জায়গায় আবার ত্রাণে চাইতে দিয়ে পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়েছেন দুর্গতরা। অথচ এমন অনেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যাঁদের পাকাবাড়ি রয়েছে। শুধু কি তাই! আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিদের নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের তালিকায়। করোনা আতঙ্কের মাঝে আমফান ত্রাণের নয়ছয় ও দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টে বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয় জনস্বার্থ মামলা।