পুলিশ কনস্টেবলকে প্রায় একশো মিটার টেনে নিয়ে গিয়েছিল বেপরোয়া বাইক। গত ১ জুলাই রাতের সেই ঘটনার ভিডিও দেখে শিউরে উঠেছিল আমজনতা। তপন ওরাঁও নামে আহত পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে গিয়ে পুরস্কৃত করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এতদিনেও খোঁজ মিলছিল না অভিযুক্ত বাইক চালকের। শেষ পর্যন্ত ঘটনার প্রায় দু' সপ্তাহ পড়ে অভিযুক্ত বাইকবাজকে গ্রেফতার করল পুলিশ। 

কলকাতা পুলিশের ডিসি ট্রাফিক সন্তোষ পান্ডে এ দিন জানান, ধৃত ওই বাইক চালকের নাম দেবেন্দ্রনাথ ঝা ওরফে সোনু। তার বয়স ১৯ বছর। ঘটনার পর পরই কলকাতা ছেড়ে বেনারস পালায় অভিযুক্ত। 

আরও পড়ুন- পার্কসার্কাসে টনক নড়েছে বেপরোয়া বাইকবাজদের রুখতে গান্ধীগিরি

কিন্তু কীভাবে এতদিন বাদে ধরা পড়ল বেপরোয়া ওই বাইক চালক? কাজটা যে একেবারেই সহজ ছিল না, তা নিজেই স্বীকার করেছেন ডিসি ট্রাফিক। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বোঝা যায়, ওই বাইকচালক কেটিএম সংস্থা সাদা এবং লাল রংয়ের বাইক চালাচ্ছিল। তা দেখে কলকাতায় কেটিএম বাইকের মালিকদের নামের তালিকা তৈরি করে কলকাতা পুলিশ। সাধারণ বাইকের তুলনায় এই সংস্থার বাইকের দাম অনেকটাই বেশি। দেখা যায়, কলকাতায় ওই ধরনের মোট ১৮০০ কেটিএম বাইক রয়েছে। 

বিপুল সংখ্যক এই বাইকের মধ্যে থেকে ঘাতক বাইক এবং তার মালিককে চিহ্নিত করা সহজ ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, ঘাতক বাইকটি দুর্ঘটনার পরে মেফেয়ার রোডে ঢুকে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী আশপাশের এলাকায় কাদের কাছে কেটিএম বাইক আছে, তার তালিকা তৈরি হয়। এর সঙ্গে কাজে লাগানো হয় স্থানীয় সোর্সদের। এবারে ১৮০০ থেকে সন্দেহভাজন বাইকের মালিকদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৮০। 

এর পরের ধাপে এই বাইকগুলির পুরনো ট্রাফিক আইনভঙ্গের কী কী অভিযোগ রয়েছে, সেই তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। পুরনো রেকর্ড ঘেঁটে দেখা ঘাতক বাইকটির সঙ্গে অভিযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ ঝার বাইকের খোঁজ মেলে। তদন্তকারীদের কাজটা আরও সহজ করে দেয় অভিযুক্তের হাতে থাকা ট্যাটু। কারণ এর আগে একবার ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছিলেন অভিযুক্ত ওই যুবক। সেই সময় ট্রাফিক সার্জেন্টের পোশাকে লাগানো ক্যামেরায় তাঁর হাতের ট্যাটুর ছবি ধরা পড়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও অভিযুক্তের হাতে ট্যাটু চোখে পড়েছিল তদন্তকারীদের। 

আরও পড়ুন- পুলিশকে ১০০ মিটার নিয়ে গেল পার্কসার্কাসের বাইকবাজ, দেখুন সেই ভিডিও

এর পরেই দেবেন্দ্রকে চিহ্নিত করতে অসুবিধা হয়নি পুলিশের। তার উপরে ঘটনার পর পরই কলকাতা ছাড়ে সে। স্থানীয় সোর্স মারফত সে খবরও পৌঁছয় তদন্তকারীদের কাছে। তবে কয়েকদিন বেনারসে কাটিয়েই কলকাতায় ফিরে আসে অভিযুক্ত যুবক। তার পরই শনিবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই ওই বাইকটি কিনেছিল দেবেন্দ্রনাথ ওরফে সোনু। সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে সে। বাইক নিয়ে স্টান্টও দেখাতে পারে অভিযুক্ত। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তার মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় সরকারি কর্মচারিকে গুরুতর আঘাত করার মতো অভিযোগও রয়েছে।