বেহালা ম্যানটনে বিজেপির পক্ষ থেকে তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। বিজেপি কর্মীরা বেহালা ম্যান্টন মোড়ে জড়ো হলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে যায়। পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর। পরে তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রেফতার হন বিজেপির স্টেট সেক্রেটারি শর্বরী মুখার্জি সহ আরও অনেক বিজেপি কর্মী। এই ঘটনাটি ঘটে দুপুর তিনটে নাগাদ।

পরে থানায় নিয়ে গেলে বিজেপি  কর্মীদের  সঙ্গে বচসা শুরু হয় থানার পুলিশ কর্মীদের। কেন স্বাধীনতা দিবসে তারা পতাকা নিয়ে মিছিল করতে পারবেন না তা জানতে চায় গেরুয়া কর্মীরা। কর্মীদের অভিযোগ, কেবল গেরুয়া মাস্ক পরে বেরোনোয় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ  মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দলদাসে পরিণত হয়েছে। তবে এই একটি ঘটনা নয়। জানা গিয়েছে রাজ্য় জুড়ে বহু জায়গায় বিজেপি  কর্মীদের জাতীয় পতাকা উত্তোলেন বাধা দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা।

বিজেপির অভিযোগ, স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন খানাকুল বিধানসভার ২৪৫ নং বুথের কার্যকর্তা সুদর্শন প্রামানিক। গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক সরজিৎ সামন্ত।  হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে, খানাকুল দু'নম্বর ব্লকের দৌলতচক সাজুর ঘাটে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীরা এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন। তখনই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের কর্মীদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। এ ঘটনায় গুরুতর জখম হন দুজন। তাঁদেরকে নতিবপুর  ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সুদর্শন ওরফে সুদামকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন  বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনাস্থলে মৃতদেহ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করে বিজেপি।বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ ঘটনাস্থলে যান । তাঁর দাবি, তৃণমূলের গুন্ডারা কুপিয়ে খুন করেছে সুদর্শনকে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আগামী বারো ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার না করলে খানাকুল অচল করে দেওয়া হবে।