পুরনো রেক নয়, মাত্র কয়েক মাস আগে চালু হওয়া নতুন রেকের যান্ত্রিক ত্রুটির জেরেই কি শনিবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা মেট্রো রেল। প্রশ্নটা ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে। আর তার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে যে যে তথ্য উঠে আসছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতোই। 

আরও পড়ুন- মেট্রোয় মৃত সজলবাবুর পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী! ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হল পরিজনদের

মেট্রো রেল সূত্রে খবর, চেন্নাইয়ের ইন্টেগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি মেট্রোর এই নতুন রেকগুলি প্রথমবার ২০১৭ সালের মাঝখানে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও তিনটি একই রেক কলকাতায় আনা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই এই রেকগুলিতে নানা রকম সমস্যা ছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল দরজা বন্ধ হওয়ার সময় 'ডোর সেন্সর' ঠিক মতো কাজ না করা। গোটা ট্রেনের একটিও দরজা যদি পুরো বন্ধ না হয়, তাহলে এই সেন্সর থেকেই চালকের কাছে সংকেত চলে যায়। 

এছাড়াও থার্ড রেল থেকে বিদ্যুৎ টানা, ট্রেন বাঁক নেওয়ার সময় যান্ত্রিক সমস্যাও ছিল এই রেকগুলিতে। যার ফলে কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির ছাড়পত্র মেলেনি। শেষ পর্যন্ত প্রায় দু' বছর ধরে ট্রায়াল রানের পরে সমস্ত ত্রুটি সারানোর পরে রেলবোর্ডের ছাড়পত্র আসে। তার পরেই গত এপ্রিল মাস থেকে যাত্রী পরিবহণে নামানো হয় রেক দু'টিকে। বাকি তিনটি রেককে চেন্নাইয়ের কারখানায় ত্রুটিমুক্ত করতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তজনিত ছাড়পত্র পাওয়ার পরেও চালু হওয়া রেক দু'টি সত্যিই কতটা নিরাপদ ছিল, শনিবারের ঘটনায় সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

আরও পড়ুন- দরজায় ঝুলছেন যাত্রী, কলকাতা মেট্রোয় বেনজির দুর্ঘটনায় মৃত্যু বৃদ্ধের

শনিবার সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিট স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার সময় নতুন ওই একটি রেকের দরজাতেই হাত আটকে গিয়েছিল সজল কাঞ্জিলাল নামে এক যাত্রীর। সেই অবস্থাতেই ট্রেন চলতে শুরু করে। দরজায় ঝুলতে থাকা সজলবাবু সুড়ঙ্গের মধ্যে পড়ে যান। থার্ড রেলে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এর পরেই প্রশ্ন ওঠে, একটি দরজা ঠিক মতো বন্ধ না হলেও কীভাবে চলতে শুরু করল ট্রেন? তবে কি সেন্সর ঠিকমতো কাজ না করাতেই চালকের কাছে কোনও সংকেত যায়নি? নাকি সংকেত গেলেও কোনও কারণে তা নজর এড়িয়ে যায় চালকের!

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মেট্রো রেল। পাশাপাশি মৃত যাত্রীর পরিবারও পার্ক স্ট্রিট থানায় মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। ফলে আলাদা তদন্তে নেমেছে পুলিশও। মেট্রো রেলের কাছে ইতিমধ্যেই ট্রেনের চালক, গার্ডের নাম-সহ বেশ কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে।  এছাড়াও পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে ঘটনার সময়ে কর্তব্যরত কর্মীদের তালিকা, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজও মেট্রো রেলের থেকে চেয়েছে পুলিশ।