Asianet News Bangla

অন্ধকার জগতে আলোর ঠিকানা আনন্দমন্দির

  • রমেশ দত্ত স্ট্রিটের সার্বজনীন দুর্গোৎসব এবার ৭৪ বর্ষে পদার্পন করল
  • জীবনে আলোর অভাবে সমাজে পিছিয়ে থাকা শিশুদের দিশা দেখায় আনন্দমন্দির
  •  ১৯৯২ সালে মাত্র ১০ জনকে নিয়ে শুরু হয় এই অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র
  • বর্তমান ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৩০
     
Ramesh Dutta Street Sarbojanin Durgotsab 2019
Author
Kolkata, First Published Sep 16, 2019, 1:22 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

'উত্তর কলিকাতা আনন্দমন্দির'-এর পরিচালনায় উত্তর কলকাতা রাম বাগান অঞ্চলের রমেশ দত্ত স্ট্রিটের সার্বজনীন দুর্গোৎসব এবার ৭৪ বর্ষে পদার্পন করলো। এই অঞ্চলের এক দিকে পিছিয়ে পড়া মানুষের অস্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানেরা যাতে বড় হয়ে সুস্থভাবে রোজগার করে জীবন যাপন করতে পারে, সেই কথা মাথায় রেখেই আনন্দমন্দির স্থাপিত হয়। জীবনে আলোর অভাবে এই নিরীহ নিষ্পাপ শিশুরা যাতে দিশাহীন হয়ে কোনও ভুল পথে না চলে যায়, সেই জন্যই এই আনন্দমন্দির।

 ১৯৯২ সালে মাত্র ১০ জনকে নিয়ে শুরু হয় এই অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র। যা আজ "সিনি-আশা ও রামকৃষ্ণ মিশন লোকশিক্ষা পরিষদ"-এর সাহায্যে আনন্দমন্দির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। বর্তমান ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৩০। ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে স্নাতক অবধি ছাত্র ছাত্রী রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। পড়াশুনোর পাশাপাশি রয়েছে ভোকাল ট্রেনিং, কম্পিউটার ট্রেনিং, বিউটিশায়ান কোর্স-এর মত এক্সট্রা ক্যারিকুলাম এক্টিভিটিও শেখানো হয় শিক্ষার্থীদের। এই প্রকল্প চালানোর জন্য রয়েছে ৩৫ জন শিক্ষক- শিক্ষিকাও।

আরও পড়ুন- পুরোদস্তুর বাঙালিয়ানা এবং সাবেকিয়ানাতেই ভরসা ফাল্গুনী আবাসনের

আনন্দমন্দির যে শুধু পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের অন্ধকার জীবন থেকে শিক্ষার আলোয় ফেরানোর ব্যবস্থা করছে তা নয়। এই শিক্ষার্থীদের দিয়েই নিকটবর্তী যৌনপল্লী ও স্লাম এলাকার বাসিন্দাদের এইডস ও ড্রাগ-এর বিষয়ে সচেতনও করা হয়। এর পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়। সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাহায্য নিয়েই আনন্দমন্দির এসবের ব্যবস্থা করে। 

আরও পড়ুন- ঘটক বাড়ির দুর্গোৎসব, শতাব্দী প্রাচীন নিয়ম মেনে বলি হয় মহামায়ার সামনে

সমাজে পিছিয়ে পড়া বাচ্চার যাতে কোনওভাবেই অন্ধকার জীবনে হারিয়ে না যায়, বরং সমাজের সমস্ত আনন্দেই তারা সামিল হতে পারে তাই আনন্দমন্দিরে সূচনা হয় দুর্গাপুজোর। এই উৎসবে প্রতিটি পরিবার একসঙ্গে মিলে মিশে পুজোর আমোদে মেতে ওঠে। নিষ্পাপ শিশুদের নিরলস প্রচেষ্টায় সেজে ওঠে আনন্দময়ীর চালচিত্র। আনন্দমন্দিরে দুর্গোৎসব মানে যেখানে কোনও ভেদাভেদের চিহ্ন নেই আছে শুধু মিলনের সুর যা প্রতিটি পরিবার কে একই সুরে বেঁধে রাখে।
 

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios