শুক্রবার রাতে বর্ধমান কর্ডলাইনে যা ঘটল, তা উপন্য়াসকেও হার মানাল। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গেল দুধের শিশু। আর ঝোপের মধ্য়ে থেকে কান্না শুনে সেই শিশুকে উদ্ধার করল রেল পুলিশ।

কী ঘটেছিল?

লিলুয়া থেকে এক দম্পতি ট্রেনে উঠেছিলেন বর্ধমান যাবেন বলে। বর্ধমান থেকে তাঁদের যাওয়ার কথা ছিল রাজস্থানে। বিজয় চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী সীমা চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন তাঁদের সাতবছরের এক ছেলে, দেড় বছরের মেয়ে, মা ও অন্য় এক আত্মীয়। লিলুয়া থেকে ওঁরা বর্ধমান কর্ড লোকাল ধরেছিলেন। বর্ধমান থেকে তাঁদের  প্রতাপ এক্সপ্রেস ধরার কথা ছিল। হঠাৎ পাল্লারোড স্টেশনের কাছে ঘটে যায় বিপত্তি।  কীভাবে যেন চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যায় দেড় বছরের শিশুটি। হতচকিত হয়ে যায় সবাই। এরপর শক্তিগড় আসতেই স্টেশনে নেমে পড়েন ওই দম্পতি। তাঁদের সঙ্গে নামেন সহযাত্রীরাও। খবর দেওয়া হয় আরপিএফকে। চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে না-থেকে তৎপর হয় রেল পুলিশ।  টর্চ জ্বালিয়ে তারা ওই বাচ্চাটিকে খুঁজতে বেরোয়। কিন্তু অনেকটা রাস্তা পেরিয়ে এসেছে ট্রেন। তাই রাতের অন্ধকারে রেললাইনের ধারে বাচ্চাটিকে খুঁজে পাওয়া কার্যত দুঃসাধ্য় হয়ে ওঠে। কিন্তু হাল ছাড়ে না পুলিশ। শেষে ঝোপের ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। আর সেই কান্না শুনেই তারা মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালে। রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। কলকাতার এক হাসপাতালে এখন মেয়েটিকে ঘিরে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, এতজনের চোখ এড়িয়ে কীভাবে দেড় বছরের একটি শিশু চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গেল। যদিও, সেই প্রশ্নকে ছাপিয়ে গিয়েছে রেল পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি। যেভাবে কান্নার আওয়াজ শুনে ঝোপের মধ্য়ে থেকে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে আরপিএফ, তাতে করে সবাই খুশি।