সব্যসাচীর বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন তিনিই। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, দলে থেকে দলবিরোধী কাজ করা যাবে না। পরে এক ধাপ পেরিয়ে তিনি মীরজাফরও বলেন বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র সব্যসাচী দত্তকে। তারপর বিস্তর জল বয়ে গিয়েছে গঙ্গা দিয়ে, নাটক হয়েছে বিস্তর সব্যসাচীকে নিয়ে।   বিদায় বেলা যখন প্রায় আসন্ন, সেই সব্যসাচীই ফিরহাদ হাকিমকে বলললেন 'দাদার মতো'।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার বিদ্যুৎ ভবনে । সেখানকার কর্মী বিক্ষোভ থেকে সব্যসাচী নানা দলবিরোধী মন্তব্য করার পরেই নড়েচড়ে বসে দল। ফিরহাদ হাকিম এদিন প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'দলে থাকব অথচ দলের বিরোধী যারা তাদের সঙ্গে নেমন্তন্ন খাবো এটা ঠিক নয়।'

এখানেই শেষ নয়। এরপরে মুকুল রায়ের সঙ্গে সব্যসাচীর বৈঠকের ঘটনা সামনে আসায় আরও চটে যান পুরমন্ত্রী। তখন তিনি বলেন,  'যারা দেশের শত্রু, তারা আমাদেরও শত্রু। দল থেকে বিধায়ক, মেয়র পদে থেকে আমাদের প্রধান শত্রুর সঙ্গে কীসের বন্ধুত্ব। তাঁর উচিত ছিল পদত্যাগ করে এসব করা। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁকে মীরজাফর বলে ডাকবে। সব্যসাচীর আচরণে শুধু দল নয়, আমি ব্যক্তিগত ভাবে অপমানিত এবং ব্যথিত।'

আরও পড়ুনঃ সব্যসাচীতে অনাস্থা ৩৫ জনের, কে হবেন মেয়র, উঠে আসছে এই তিন নাম
'কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন, সময় কোথায়', মমতাকে নিয়ে মন্তব্য সব্যসাচীর

এরপরের ঘটনা সকলেরই জানা। তৃণমূল ভবনে দলীয় বৈঠকের পরেই সিদ্ধান্ত হয় অনাস্থা ভোটের। অনাস্থা ভোটের মুখেও  ফিরহাদ হাকিম টিপ্পনী দিতে ছাড়েনি। বলেন, 'দল অনেক দিন আগেই সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি যেহেতু ওকে খুবই স্নেহ করতাম, তাই বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগত স্নেহের থেকে দলের অনুশাসন অনেক বেশি। সেটা অনেক পরে আমি উপলব্ধি করেছি। এর জন্য দলের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।'
 

এই সবের মধ্যেও অবিচল সব্যসাচী গান্ধীবাদী আচরণ করলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে অনাস্থা ভোটে হারের খবর শুনেও মুখ ভাবলেশহীন। বললেন, 'অনাস্থায় হেরে যেতেই পারি'। তাঁর দাবি বিজেপির তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই করা হয়নি। প্রশ্ন এল ফিরহাদ হকিমকে নিয়েও। একগাল হেসে সব্যসাচী বললেন, উনি আমার দাদার মতো। ভবিষ্যতেও সম্পর্ক থাকবে।