অনেকেই বলছিলেন সব্যসাচীপন্থী কাউন্সিলাররা খেলা ঘুরিয়ে দেবেন শেষ মুহূর্তে।  কিন্তু এদিন বেলা যত এগোলো, পাশার দান ততই গেল সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে ৪১ টি আসনের মধ্যে ৩৫ টি ভোট পড়েছে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে। খুব পরিস্কার বার্তা, দল আর চায় না তাঁকে। আবার সব্যসাচী দত্তের দল ভারী করার অবস্থাও নেই। তাঁর মেয়র পদটি যেতেই চলেছে। কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র। সব্যসাচীর পরে কে?

এদিন হুইপ জারি করে অনাস্থা ভোট ডাকা হয় বিধাননগর পুরনিগমে। এই বৈঠকে হাজির থাকার কথা ছিল বর্তমান মেয়র সব্যসাচীরও। দেড়টায় বৈঠক, দুপুর তিনটে পর্যন্ত বাড়ির সামনে লালবাতি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও সব্যসাচী আসেননি। সব্যসাচীর অনুপস্থিতিতেই তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেন ৩৫ জন। তখনই প্ৰশ্ন উঠতে শুরু করে এরপরে কে। 

যোগ্য পদপ্রার্থী হিসেবে দলের তরফে বারবারই উঠে আসছে তাপস চ্যাটার্জীর নাম। সিপিএম থেকে দলে এসে দলের বহু কাজেই নির্বিকলিপ হয়ে উঠছেন তাপস।  অন্য দিকে এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে চেয়ারপার্সন রত্না চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দল চাইলে তিনিও দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।  কৃষ্ণা চক্রবর্তী বহুকালের অনুগত কর্মী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রের লড়াইয়ের প্রথম দিন থেকই ছায়াসঙ্গী তিনি। রাজনীতি থেকে বেরিয়ে গেলে মুখ্যমন্ত্রী নিজের উদ্যোগে তাঁকে ফিরিয়ে আনেন। 

আরও পড়ুনঃ সব্যসাচী কাণ্ডে দলের কাছে ক্ষমা চাইলেন ফিরহাদ, কীসের আফসোস পুরমন্ত্রীর
আজই আনা হচ্ছে অনাস্থা প্রস্তাব, তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি সব্যসাচী

এদিন সংবাদমাধ্যমকে কৃষ্ণা চক্রবর্তী আরও বলেন,'মেয়র কে হবে দল ঠিক করবে। চেয়ারপার্সনকে অনাস্থা নোটিস জমা দেওয়া হয়। আইন মেনে বোর্ড মিটিং ডাকা হবে।' প্রসঙ্গত এই দড়ি টানাটানি খেলায় উঠে আসছে আরও একটি নাম। তিনি হলেন দেবাশিষ জানা। তিনবারের মেয়ার পারিষদ তিনি। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত। এই অবস্থায় তাঁকেও মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলকে। কাঁটা তোলা হচ্ছে। এত সহজে সমস্যা দূর হবে না তৃণমূলের ভাগ্যাকাশ থেকে।