জামাইষষ্ঠী মানেই জামাই-এর রীতিমতো খাতিরদারি যাকে বলে। বছরের এই সময়টা জামাই-কে এই সংস্কারের মাধ্যমে শাশুড়িদের তোয়াজ করতে হয়। জামাই-এর মঙ্গল কামনার সঙ্গে সঙ্গে তাকে পেট পুরে খাওয়ানোটাও এই সংস্কারের মধ্যেে পড়ে। শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে একবার নজর বুলিয়ে নিন এই বিশাল ভুরিভোজের পদগুলিতে। চেক লিস্টে মিলিয়ে দেখে নিন এরমধ্যে কোনটা থাকল, আর কোনটা বাদ গেল। সকাল থেকে রাত, জামাইয়ের পাত জুড়ে থাকা চাই চাঁদের হাট। খামতি রাখা চলবে না কিছুতেই। বাঙালীর পেট পুরে ভুরিভোজের অন্যতম উৎসব এই জামাইষষ্ঠী। তাই রসনায় রাখতেই হবে রাজকীয় ব্যবস্থা। মাছ, মিষ্টি, মোর... চাওয়া মাত্রই পাতে হাজির করতে হবে তৎক্ষণাৎ। তবেই ফুটবে মেয়ের মুখে হাসি। তাই শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে নজরে রাখুন জামাইয়ের পাতে থাকতে পারে কী কী পদের সম্ভারঃ

  • প্রাতরাশ- দিনের শুরু হোক বা শেষ, এই দিনে হালকা খাবারের প্রশ্নই উঠে না। ফলে কাঁসার থালায় সাজিয়ে ফেলুন- ফুলকো লুচি, বেগুন ভাজা, আলুর দম, ছোলার ডাল, ক্ষীরের পায়েস, রাজভোগ, আম এবং অতি অবশ্যই আমের শরবত।
  • মধ্যাহ্ণ ভোজ- দুপুরে পাত পেরে খাওয়ার মজাই আলাদা। প্রকৃত জামাই আদরে বসিয়ে সেরে ফেলুন মধ্যাহ্ণভোজ। পদে রাখুন-সরু চালের ভাত, ঘি, লাল শাক, ঝুরঝুরে আলু ভাজা, মাছের মাথা দিয়ে সোনামুগ ডাল, এঁচড় চিংড়ি, মুড়িঘন্ট, চিতল মাছের মুইঠা, বাসন্তি পোলাও, রেওয়াজি খাসির কষা মাংস, আনারসের তেতুঁল চাটনি, বেকড মাখা সন্দেশ, পেস্তা সন্দেশ, শাহি রাজভোগ, আমদই, ক্রিম-ক্যারামেল আইসক্রিম, রূপলী শাহি পান।
  • বিকেল- বিকেলে এবার খানিক বিরতি। হালকা চা দিয়েই শুরু করা যেতে পারে পারিবারিক গল্পের আসর। ইলাইচি, দারচিনি, লবঙ্গ সংমিশ্রণে দুধ চা, খাস্তা বিস্কুট।
  • সন্ধ্যেবেলা- সন্ধে গড়ালে আবারও জামাইয়ের হাতে তুলে দেওয়া নতুন পদ। পাত খালি থাকা মোটেই চলবে না এই দিন। তবে স্বাদের খানিক বদল ঘটতেই পারে এইসময়। তাই সঙ্গে রাখুন-পাপরিচার্ট, দই ফুচকা, মালাই কাবাব, কোল্ড ড্রিঙ্কস।
  • নৈশভোজ- পরিশেষে রাতের পালা। দিনের সব ক্লান্তি শেষ। কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার। তাই শেষ বেলায় জামাইয়ের মন জয় করতে পাতে তুলে দিন- গোবিন্দভোগ চালের ভাত, ঘি, পাতলা মুশরির ডাল, আলু পোস্ত, ইলিশ পাতুরি, পাবদা মাছের ঝাল, দেশী মুরগী কষা, পরোটা, রসমালাই, সালাড, মিহিদানা, পুডিং।