বিজেপি সাংসদের পর এবার রাজ্য়ের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তার মৃত্যু নিয়ে সরব হল ৬ চিকিৎসক সংগঠন। তাদের দাবি,ওই মেডিক্যাল অফিসারের মৃত্যু যে করোনর জন্য়ই হয়েছে তা স্বীকার করতে হবে রাজ্য় সরকারেকে। এমনই দাবি করেছে চিকিৎসক সংগঠনের যৌথ প্ল্যাটফর্ম -জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস।

৩ মে'র পর ২ সপ্তাহ ধরে উঠে যাক লকডাউন, এমনই চান নাগরিক মমতা..

একটি  বিবৃতি জারি করে ওই সংগঠন দাবি করেছে, সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য় অধিকর্তার মৃত্যুতে  দু-মিনিটের নীরবতা পালন করবে তাঁরা। করোনা যুদ্ধে বিপ্লববাবুর মৃত্যুকে কোনও মেডিক্যাল অফিসারের প্রথম শহিদ হওয়ার ঘটনা হিসাবে দেখছে সংগঠন।

এদিনই রাজ্যের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তার মৃত্যু নিয়েও শুরু হয়ে যায় বাদানুবাদ। সকালেই ওই আধিকারিকের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী। টুইটে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন,মানবতার জন্য তাঁর আত্মত্যাগ আজীবন আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবে এবং আমাদের করোনা যোদ্ধাদের আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করবে। যদিও ওই টুইট নিয়েই মমতাকে বিঁধতে ছাড়েননি আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। পাল্টা টুইটে তিনি লেখেন, ওই আধিকারিকের মৃত্যু যে করোনায় হয়েছে তা উল্লেখ করেননি মুখ্য়মন্ত্রী। কথার মারপ্যাচে তা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। 

মমতার শোকজ্ঞাপনে নেই করোনায় মৃত্য়ুর উল্লেখ, স্বাস্থ্য় কর্তার মৃত্যুতে মমতার নিন্দা বাবুলের..

টুইটে বাবুল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এখনও চাতুর্যের সঙ্গে শব্দ নিয়ে খেলা করছেন। উনি যে করোনা আক্রান্ত হয়েই মারা গিয়েছেন সেকথা বলেননি। এ প্রসঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর টুইটেরও উল্লেখ করেছেন বাবুল।  জানা গিয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে স্বাস্থ্য় দফতরের অতিরিক্ত অধিকর্তা বিপ্লববাবুর। 

১৮ থেকে বাংলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০, করোনায় আক্রান্ত ৪৬১.

সম্প্রতি করোনায়  আক্রান্ত হওয়ার পর  বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরে অবশ্য় সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়।  শনিবার মাঝ রাতে মৃত্যু হয় তাঁর। বিপ্লববাবুর স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছে।  

এদিকে স্বাস্থ্য়  কর্তাকে ঘিরে মুখ্য়মন্ত্রীর ওই শোকবার্তায় যার পর নাই চটেছেন বাবুল। টুইটারে তিনি লিখেছেন,এরকম লজ্জাজনক ঘটনা দেখা যায় না। শোকবার্তায় এতকিছু বললেও উনি যে কোভিড১৯ যুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন তা একবারও উল্লেখ করেননি মুখ্য়মন্ত্রী। যা শব্দের চাতুরি ছাড়া আর কিছুই নয়। এবার দেখা গেল সেই পথেই হাঁটল ৬চিকিৎসক সংগঠন। চিকিৎসকদের এই বিবৃতিতে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ল নবান্নের।