করোনা আক্রান্ত হয়েও নিস্তার নেই। নিজের অসাবধানতার দরুণ এবার  সোশ্য়াল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হচ্ছেন লন্ডন ফেরত। ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে তাকে নিয়ে ছবি। সবার মুখেই এক কথা,রবীন্দ্রনাথরা নোবেল এনেছিলেন, শ্রীমান নভেল করোনা আনলেন।  

পরিবারে প্রভাবশালী দেখিয়ে সংক্রমণ ছড়াবেন না,রাজ্য়ের আমলাকে সতর্ক করলেন মমতা

লন্ডন থেকে ফিরে স্বাস্থ্য় পরীক্ষা না করিয়ে শপিং মলে ঘুরে বেরিয়েছে মা-ছেলে। আইসোলেশনে না গিয়ে নবান্নে কাজ করেছেন ওই আমলা। পরে ছেলের দেহে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ায় হুঁশ ফিরেছে তাঁর। যদিও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একজন সরকারি আমলার এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য় তাঁর শাস্তি চেয়েছেন নেটিজেনরা।  

বিমানবন্দরে 'ফাঁক গলে' কলকাতার তরুণের করোনা, কেন অধরা ভাইরাসের উপসর্গ

জানা গিয়েছে, নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন করোনা আক্রান্ত তরুণের মা। নবান্ন ও মহাকরণে তাঁর অফিস হওয়ায় গত দুদিন  বিদেশ থেকে ফিরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই সমস্ত কাজ সেরেছেন তিনি। এমনকী গুরুত্বপূ্র্ণ বৈঠকে করেছেন নির্দিষ্ট সময়ে। যার  এখন বিপাকে পড়েছেন তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা। আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাঁদের পরিবারও।

হাসপাতালে না গিয়ে ছেলে মলে, আমলার শাস্তির দাবি নেটিজেনদের

ইতিমধ্য়েই মহিলার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট  করেছেন মলয় মুখোপাধ্যায় নামে স্বরাষ্ট্র দফরের এক কর্মী। একই ভয় পাচ্ছেন নবান্নের আরও এক ধপতরের আধিকারিক ইন্দ্রনীল বাগচির স্ত্রী। তাঁর দাবি, নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য যথাযথ শাস্তি হোক ওই আমলার। এদিকে আমলার এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রীও। এদিন নাম না করে ওই আমলা সম্পর্কে  ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন,বিদেশ থেকে ফিরে আগে স্বাস্থ্য় পরীক্ষা করান। নিজে থেকেই আলাদা থাকুন। দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করবেন না। 

শাস্তি পর্যন্তই থেমে  থাকেনি দাবি। অধিকাংশই মায়ের সঙ্গে ট্রোল করেছেন ছেলেছে। মায়ের ডেপো  ছেলে বলে ইউটিউবে ছড়িয়ে গিয়েছে ভিডিয়ো। সোশ্যাল মিডিয়ায়  কেউ বলেছেন,যারা জীবনে হতাশ হচ্ছেন-এই ছেলে তাদের কাছে ইনস্পিরেশন। এরকম একটা ছেলের লন্ডনে গার্লফ্রেন্ড আছে। ভাবুন তাহলে আপনার কত কী হতে পারে। তবে সবথেক বেশি ট্রোল  হয়েছে রবীন্দ্রনাথ, অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বন্দ্য়োপাধ্যায়, মাদার টেরেসার ছবি  দিয়ে। যেখানে লেখা এনারা আমাদের  নোবেল দিয়েছে। এ রাজ্য়ে নোভেল এনেছে। গালির বন্য বয়ে গিয়েছে ফেসবুক ,হোওয়াটস অ্যাপ ঘিরে।  ছেলের সঙ্গে ট্রোল হতে হয়েছে মাকেও।  

জানা গিয়েছে, বিদেশ থেকে ফিরে নিষেধ অবজ্ঞা করেই নবান্ন-শপিংমল-ক্লাবে ঘুরে বেড়ান করোনায় আক্রান্ত তরুণ।  রবিবার লন্ডন ফেরার পর গত মঙ্গলবার, ১৭ তারিখ, বেলেঘাটা আইডি-তে ধরা পড়ে ওই তরুণের শরীরে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে। তারপরই ওই যুবককে বেলেঘাটা আইডি-র আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে  যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদেরকেও কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকেরা৷ সংক্রামিত তরুণের মা,বাবা এবং গাড়িচালককে  আইডি হাসপাতালের কোয়েরান্টিনে রাখা হয়েছে৷

 বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ওই তরুণের অবস্থা এখন অনেকটাই ঠিকঠাক। অপরদিকে, পরিবারের লোকেদের লালরসের নমুনা সংগ্রহ করে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের তরফে পুনে নাইসেডে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। জানা গিয়েছে মা-বাবার সঙ্গে দুই ড্রাইভারেরও রক্তে করোনার ভাইরাস পাওয়া যায়নি।  কিন্তু অপরদিকে রীতিমত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওই তরুণের আবাসনের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, লন্ডন থেকে ফেরার পর চৃড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করেছেন ওই তরুণ ও তাঁর পরিবার।

জানা গিয়েছে, রবিবার এয়ারপোর্টে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের পর তাঁকে বেলেঘাটা আইডি-তে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও বিমানবন্দর থেকে সোজা মায়ের সঙ্গে বাড়ি চলে আসেন। তারপর সোমবার, ১৬ তারিখ, সকালে আবাসনে বেরিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন। সেখান থেকে বাড়ির লোকের সঙ্গে এম আর বাঙুর হাসপাতালে যান। অভিযোগ, মায়ের প্রভাব খাটিয়ে জোর করে এম আর বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসক দেখান তিনি। সেখান থেকেও তাঁকেও বেলেঘাটা আইডি-তে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই তরুণ নিষেধ অমান্য় করে জানায়, সে ভর্তি কোনও হাসাপাতালে ভর্তি হবে না। এরপরই মায়ের সঙ্গে নবান্নে আসেন ওই তরুণ। নবান্নে ঘোরাফেরা করেন। এমনকী তারপর মায়ের সঙ্গে মহাকরণেও যায় ওই তরুণ। তাই এই মুহূর্তে সেই সব জায়গাগুলিই খতিয়ে দেখছে রাজ্য় স্বাস্থ্য় দফতর। 

উল্লেখ্য ওই ছেলে ও মায়ের ছবি যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। কেবল সোশ্য়াল মিডিয়ায় যে খবরটা রয়েছে, তা তুলে ধরতেই আমাদের এই প্রতিবেদন।