মাদকবিরোধী মিছিল। অথচ পুলিশকর্তাই মত্ত অবস্থায়। তাঁর এমনই অবস্থা যে ঠিক করে দাঁড়াতেও পারছেন না। হাত মাউথ-স্পিস। মাইকে ঘোষণা করতে হচ্ছে। কিন্তু তাতেও গলা পুরো জড়িয়ে যাচ্ছে তাঁর। লজ্জায় মাথা হেঁট মাদকবিরোধী মিছিলে থাকা পুলিশ কর্তাদের। শেষমেশ সোনারপুর থানার আইসি অসিতবরণ কুইল্যাকে সাসপেন্ড-ই করলেন বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি রশিদ মুনির খান। 

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে রশিদ মুনির খানের সঙ্গে কথাও বলা হয়। বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি-ও জানান, অসিতবরণ মাদকবিরোধী মিছিলেন মদ খেয়ে এসেছিলেন। তিনি ঠিকমত হাঁটতেও পারছিলেন না। তাই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে কত দিনের জন্য এই সাসপেনশন তা তিনি জানাননি। জানিয়েছেন, আপাতত এই সাসপেনশন চলবে। 

অভিযোগ, অসিতবরণ কুইল্যা বহুদিন ধরেই মদাসক্ত। তিনি মদ ছাড়া থাকতেই পারনে না। এর আগেও বহুবার ডিউটিতে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপানের অভিযোগ উঠেছে। এমনকী দিন কয়েক আগে তিনি সোনারপুর থানার সামনে রাতের বেলায় খালি-গায়ে হাফপ্যান্ট পরে মারপিটও করেছেন বলে অভিযোগ। 

জানা গিয়েছে, বহিষ্কৃত আইসি অসিতবরণ কুইল্যার কর্মকাণ্ড দেখে পুলিশ সুপার রশিদ মুনির খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁরা অসিতবরণকে সংযত হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু, টলমল পায়ে অসিতবরণ তখন সংযত হওয়া দূরে থাক দাঁড়াতেই পারছিলেন না। তাঁর কীর্তি-কলাপ দেখে মিছিলে যোগ দেওয়া মানুষদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। অনেকেই হেসে ফেলেন। শেষপর্যন্ত মান-সম্মান বাঁচাতে বহিষ্কৃত আইসি অসিতবরণ কুইল্যা-কে সোনারপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি-র দফতরে হাজিরা দেন অসিতবরণ। পুলিশ সুপার রশিদ মুনির তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং সাসপেন্ড-এর নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার সকালেই অসিতবরণের হাতে সাসপেনশন-এর নোটিশ পৌঁছয়। বিকেলেই তাঁর জায়গায় সোনারপুর থানার আইসি পদে যোগ দেন ভাঙড় থানার আইসি সৌগত রায়।