১২ দিন হয়ে গেলেও কাটেনি উস্থি অনশন আন্দোলন বিধাননগরে উন্নয়ন ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বেতন বৈষম্য এবং অন্যায্য বদলি আটকাতে পথে প্রাথমিক শিক্ষকরা  কবি শঙ্খ ঘোষের পর অনশনরত দের উদ্দেশে খোলা চিঠি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের

১২ দিনে পড়ল প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন আন্দোলন। বেতন বৈষম্য এবং অন্যায্য ভাবে বদলি হওয়া শিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন করছেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকেরা। এখনও ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বেতন বৈষম্যর প্রতিবাদে হওয়া এই আন্দোলনে বৃহস্পতিবার যোগ দেন মন্দাক্রান্তা সেন। বিশিষ্ট সাহিত্যিক এই দিন সল্টলেক উন্নয়ন ভবনের ওয়াই চ্যানেলে অনশন আন্দোলনে বসেন। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রাথমিক শিক্ষকদের এই আন্দোলন নিয়ে শঙ্খ ঘোষের পর খোলা দিয়েছেন চিঠি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-ও। বুধবাার প্রকাশ্যে আসা এই ভিডিও বার্তায় তিনি অনশনরত শিক্ষকদের শারিরীক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই বার্তায় তিনি জানান বেতন বৈষম্য নিয়ে যে দাবী রয়েছে তা সরকারের বিবেচনা করে দেখা উচিত। সেই সঙ্গে তিনি বলেন,বেতন বৈষম্য নিয়ে আন্দোলনের জন্য যে সমস্ত শিক্ষকদের দূরে বদলি করা হয়েছে তারও সমাধান হওয়া দরকার। 

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আগে মাধ্যমিক পাশকে যোগ্যতা হিসাবে ধরা হত। বর্তমানে সেই যোগ্যতামানকে বাড়িয়ে উচ্চ মাধ্যমিক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু নম্বর প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক রয়েছে। এই শর্ত পূরণ না করলে প্রাথমিক শিক্ষককে অন্তত স্নাতক হতে হবে। উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন দাবি যোগ্যতামান বাড়ানো হলেও তাঁদের মাইনে এনসিইআরটি-র নিয়ম মেনে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গত ১০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকরা অন্য রাজ্যের শিক্ষকদের তুলনায় ১০-১২ হাজার টাকা কম মাইনে পেয়েছেন, এমনই অভিযোগ তাঁদের। তাই উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিকবার কথা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই এই আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁদের সঙ্গে অবস্থান আন্দোলনে বসেছেন আরও কয়েক হাজার প্রার্থী। ইতিমধ্যে আন্দোলন স্থলে অন্তত লাখ-খানেক শিক্ষক-শিক্ষিকা জমায়েত হয়েছেন। এর পরেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনও রকম সহযোগিতা মেলেনি দাবি আন্দোলনকারীদের। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জানিয়েছেন ' বেতন বৈষম্য ৫ শতাংশ অবধি দূর করা সম্ভব। পুরো বৈষম্য দূর করার জন্য রাজ্যর কোষাগারে অর্থ নেই'।

বৃহস্পতিবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল নজরুল মঞ্চে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়েছে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোরপাধ্যায় জানান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যাবতীয় বঞ্চনার ইতিহাসের গোড়াপত্তন করে গিয়েছে ৩৪ বছরের বাম সরকার। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শিক্ষকরা আগে থেকে এখন অনেক বেশি সুদিন দেখছেন। এই মঞ্চ থেকেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে বলেন স্কুল বন্ধ করে এসে ধর্না বা আন্দোলন করলে হবে না। এর জন্য কড়া খেসারতও দিতে হবে। তবে, উন্নয়ন ভবনের ওয়াই চ্যানেলে অনশ,ন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি নিয়ে সরাসরি কোনও কথাই বলেননি শিক্ষামন্ত্রী।