বিজেপি-তে যোগ দিয়ে কলকাতায় ফিরে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে জিততে পারবে না তৃণমূল কংগ্রেস। 

শোভনের অভিযোগ, তিনি বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিষয়টি জানতে পেরেই ক্ষুব্ধ শোভন অভিযোগ করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই কাজ হয়েছে। কলকাতায় ফিরে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'আপনি তো আমাকে চেনেনই মুখ্যমন্ত্রী। বাম আমলেও বরাবরই সব আন্দোলনে সামনে থেকেছি। ভয় পেয়ে আমি পালিয়ে যাই না।'

আরও পড়ুন- 'পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম', নাম না করে মমতাকে বিঁধলেন শোভন

আরও পড়ুন- দেবশ্রী পিং পং বল, ক্ষোভ উগরে দিলেন বৈশাখী

এর পাশাপাশি শোভন ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানিয়েছেন, শুধু কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলররাই নন, তৃণমূলের অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মঙ্গলবারই কলকাতার বিজেপি অফিসে যাওয়ার কথা শোভনের। সেখানে তাঁকে সংবর্ধিত করা হবে বলেও খবর। রবিবার বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কলকাতায় ফিরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষেরও প্রশংসা করে শোভন। 

শোভন অভিযোগ করেন, বাম আমলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে যেভাবে সরকার চালানো হত, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। শোভন বলেন, 'মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়লে কী হয়, তার ফল আমরা ২০১৯ লোকসভা ভোটের ফলে দেখেছি। আমার তো মনে হয় না তৃণমূল কংগ্রেস ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে।' শোভনের দাবি, ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিয়ে তবু লোকসভা নির্বাচনে ২২টি আসন পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আসলে তাদের ফল আরও খারাপ হয়েছে। 

একদিনের বৃষ্টিতেই জলে ভেসেছে কলকাতা। তা নিয়েও কলকাতার পুরসভার ভূমিকার সমালোচনা করেছেন শোভন। তিনি বলেন, 'কলকাতা জলে ভাসছে। দেখে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া থাকলে এই অবস্থা কেন হবে?'