রাজ্য়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রোগী বা রোগীর পরিবারের কোভিড-১৯ নিয়ে সঠিক কোনও ধারণা নেই। অনেকেই জানতে উৎসুক আবার অনেকেই হোম আইসোলেশন-কোয়ারেন্টিনে থেকেই করেও ফেলেন ভূল। হাসপাতাল-কোয়ারেন্টিন সেন্টার-সেফ হোম হোক কিংবা নিজের বাড়ি- কোভিড আক্রান্ত ও পরিবারের ক্ষেত্রে কী কী জানা ভীষণভাবে জরুরী, বিস্তারিত জানিয়েছেন,   রাজ্যের জন স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক কাজল কৃষ্ণ বণিক।

আরও পড়ুন, কোভিডের ক্ষেত্রে কীকী উপসর্গ দেখলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়া উচিত, জানুন বিস্তারিত

প্রথমত জেনে নেওয়া যাক, কোভিডে হাসপাতাল-কোয়ারেন্টিন সেন্টার-সেফ হোমের ক্ষেত্রে কী নিয়ম এবং সেখান থেকে ডিসচার্জ হওয়ার পরই বা কী নিয়ম।  রাজ্যের জন স্বাস্থ্য আধিকারিক কাজল কৃষ্ণ বণিক জানিয়েছেন, প্রধানত ৭+ ৩ + ৭ অর্থাৎ মোট ১৭ দিনের হিসাবে এই নিয়মটি মেনে চলা হয়। হাসপাতাল-কোয়ারেন্টিন সেন্টার-সেফ হোমের ক্ষেত্রে, প্রথম ৭ দিনই সবচেয়ে বেশি জরুরী। এই ক্ষেত্রে এই ৭ দিনের মধ্যে কোভিড রোগীর শরীরিক অবস্থা যাবতীয় অদলবদল আসে। অর্থাৎ উন্নতি বা অবনতি দুই এরই সম্ভাবনা থাকে।' তবে ৭ দিন পেরিয়ে গেলে বলা যায় ঝড় থেমে গেছে। তবে ঝড় আবার হবে কিনা তাই এর পরের ৩ দিন খেয়াল রাখা হয়। 'যদি এর পরের ৩ দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি না হয়, ধরে নেওয়া হয় ওই নির্দিষ্ট ব্য়ক্তি সুস্থ। হাসপাতাল-কোয়ারেন্টিন সেন্টার-সেফ হোম থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাহলে ওই ১৭ দিনের মধ্য়ে এই অবধি হল ১০ দিন।' এরপরেও থাকছে বাকি ৭ দিন। 

আরও পড়ুন, পরামর্শ না মানলেই বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল, কড়া বার্তা কমিশনের

হাসপাতাল-কোয়ারেন্টিন সেন্টার-সেফ হোম থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর বাকি ৭ দিন নিয়েও জানালেন  রাজ্যের জন স্বাস্থ্য আধিকারিক চিকিৎসক কাজল কৃষ্ণ বণিক। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর এই পরে ৭ দিনও গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে অত্যন্ত সাবধানে রাখতে হবে। বাইরে যাওয়া বা বাইরে কারও সঙ্গে দেখা করা চলবে না। পাশাপাশি যদি কোনও রোগী হোম আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে থাকেন তাঁর ক্ষেত্রেও এই নিয়মটা প্রযোয্য হবে। প্রথম ১০ দিন তাঁকে অত্যন্ত সাবধানে থাকতে হবে। শারীরিক অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে এই আক্রান্ত ব্য়াক্তির সংস্পর্শে আসবে, তাঁদেরকেও কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে। হোম কোয়ারেন্টিনে তাঁকে থাকতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলে সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র যোগাযোগ করতে হবে' বলে জানালেন তিনি।