'বাংলার চাষীরা কেন কেন্দ্রের পাঠানো টাকা পেল না, অভিযুক্ত আইপিএস অফিসার প্রমোশন পেল কীভাবে', মুখ্যমন্ত্রীকে একাধিক প্রশ্ন  রাজ্যপালের। 'আমার প্রত্যেকটা চিঠির উত্তর আপনাকে দিতেই হবে',বেহালা বড়িশা চন্ডী মন্দিরে এসে বলেন রাজ্যপাল।

'শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা বোঝে না'

বুধবার বেহালা বড়িশা চন্ডী মন্দিরের রাজ্যপাল তার স্ত্রীকে নিয়ে পুজো দিতে আসেন, সেখানে এসে বললেন,' রাজ্যপালের অনুসারে আমার দায়িত্ব রয়েছে ভারত বর্ষের সংবিধানকে সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা। আমি সংবাদ মাধ্যমকে অনুরোধ করছি আপনারা আপনারা নিজেদের মত কাজ করুন প্রজাতন্ত্র শক্ত হবে। শিক্ষামন্ত্রীকে আমি অনুরোধ করলাম শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। যেদিন থেকে রাজ্যপাল হয়েছি অনেক কষ্টে পশ্চিমবঙ্গের সময় কাটছে। পশ্চিমবঙ্গের সংবিধানকে আমরা ধীরে ধীরে নষ্ট করছি। আর পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষার রাজনীতিকরণ করে চলেছে। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা বোঝে না। রাজ্যের ভাইস-চ্যান্সেলর ধরনায় বসে পড়েছে, এই রকম একজন ব্যক্তিকে ডিনের  জায়গায় বসিয়ে দিয়েছে। যেটা রাজনৈতিক  প্রবক্তা শিক্ষার উপর প্রহার করা। তিনটি স্তম্ভকে নষ্ট করা হচ্ছে। আমি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অনুরোধ করব শিক্ষাকে নষ্ট করবেন না। শিক্ষা মন্ত্রী পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। যেটা ভবিষ্যতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

'আমার প্রত্যেকটা চিঠির উত্তর আপনাকে দিতেই হবে'


'২০২০ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, ২০২১ এই রাজ্যে ভোট আছে.পশ্চিমবঙ্গের ভোট এর উপর সারা ভারতবর্ষের নজর থাকে কারণ এখানে সবচেয়ে বেশি হিংসা হয়। ভোটকে প্রভাবিত করবে ভোট দিতে পারবে না। মানুষেরা ফ্রী ফেয়ার ইলেকশন হতে হবে। আসন্ন ভোট যেন সবাই ভোট দিতে পারে।   আমার প্রার্থনা সরকারি কর্মচারীদের বলছি আপনারা মানুষদের জন্য কাজ করুন। আপনারা রাজনৈতিক কর্মী নয় । যদি আপনার রাজনৈতিক কর্মীদের মত কাজ করেন তাহলে আপনারা ভারতের সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করবেন। যদি সরকারি কর্মীরা রাজনৈতিক দলের মতো কাজ করেন তাহলে আইন  আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না।' আরও বলেন,  'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি বলবো আমার প্রত্যেকটা চিঠির উত্তর আপনাকে দিতেই হবে। আমাকে যদি কোন জায়গায় অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয় আমি দেব। আমি  কোনও জায়গায় কোনও ভুল পদক্ষেপ নেই না। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব আমার প্রত্যেকটা চিঠির উত্তর দিন।'

'পশ্চিমবঙ্গের কোনও চাষী কেন কেন্দ্রের পাঠানো টাকা  পেল না'

অপরদিকে কৃষি প্রসঙ্গ তিনি প্রশ্ন করেন, ' পশ্চিমবঙ্গের ৭০ লক্ষের বেশি চাষী রয়েছে। দেশের প্রত্যেকটা চাষীদের টাকা করে ১৪০০০ টাকা  পেয়েছেন। ৬ হাজার টাকা করে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পাঠানো টাকা কৃষকদের সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢোকে। পশ্চিমবঙ্গের কোনও চাষী কেন সেই টাকা পেল না। এই টোটাল অ্যামাউন্ট ৯৮০০ কোটি টাকা। কেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা সেই টাকা পেল না। পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে এক রাজ্য যেখানে কৃষকরা টাকা পাচ্ছে না। এটা ভয়ঙ্কর রাজনীতি হচ্ছে। আপনি কৃষকদের  দিচ্ছেন দিন কিন্তু সেন্টাল গভমেন্টের টাকা কেন দেবেন না।   সেন্ট্রাল থেকে ১৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে আপনি ১৪০০ টাকা পর্যন্ত দেননি কৃষকদের।'

'অভিযুক্ত IPSঅফিসার প্রমোশন পেল কীভাবে'

রাজ্যপাল আরও বলেন, ' আপনি সবসময় বহিরাগত বলেন তাহলে আজাধীন বাহিনী নেতাজি বানিয়ে ছিল সেটা কি কোন নির্দিষ্ট রাজ্যের জন্য বানিয়েছিল বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আরও বলেন, 'নাকি সারা দেশের জন্য বানিয়েছিল এই দেশ এক আত্মার দেশ। প্রত্যেকদিন আপনি এক কথা বলেন যে, বহিরাগত বহিরাগত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জালিওনাবাগ যখন ওই হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তখন কবিগুরু পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের দুঃখ কষ্ট বুঝতে পেরে চিঠি লিখেছিল। কারণ আমরা কিন্তু বহিরাগত নই। কেউ দেশের বাইরে নয়,  আমরা সবাই স্বাধীন নাগরিক ভারত বর্ষের ১৪ মাস ধরে আপনি আমাকে কোন চিঠির উত্তর দিচ্ছেন না। জ্ঞানবন্ত সিং সিনিয়ার আইপিএস অফিসার উনি অভিযুক্ত হওয়া সত্বেও দুটো প্রমোশন কীভাবে পেল সব কথার উত্তর আমাকে দিতে হবে।'