এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সংবাদ মাধ্যমে এই অভিযোগ করেছেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। পাল্টা সেলিমের বিরুদ্ধে মানহানির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাবুল।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্থাকাণ্ডে এতদিন ছাত্রদের বিরুদ্ধেই আঙুল উঠছিল। এবার খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে যৌন উত্তেজনাকর মন্তব্যের অভিযোগ করলেন রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ। সেলিমের দাবি, যাদবপুর ধুন্ধুমার কাণ্ডে ছাত্রীদের অশালীন ইঙ্গিত করেছেন বাবুল। কেন ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে ছোট জামা প্যান্ট পরে এসেছে তা নিয়েও প্রশ্ন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ক্যাম্পাসে তারা কী করতে আসে, তাও ছাত্রীদের প্রশ্ন করে বাবুল। এখানেই থেমে থাকেননি আসানসোলের সাংসদ। এক ছাত্রীকে ঘরে ডাকেন বাবুল। সেখানে গেলে সেই ছাত্রী নিজেকে চিনতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

যদিও সেলিমের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল। তিনি বলেন, যা হয়েছে তা হাজার হাজার মোবাইল ক্যামেরার সামনে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমি কোন ঘরে ছাত্রীদেরক নিয়ে যেতে চেয়েছি জানতে পারলে ভালো হত। তবে এই  বলেই থেমে থাকেননি বিজেপির এই সাংসদ। বাবুল বলেন, নিজের বক্তব্যের যদি প্রমাণ দিতে না পারেন তা হলে সেলিমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন তিনি। 

এবিভিপির নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। প্রথম থেকেই বাবুলকে বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ঢুকতে বাধা দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, গো-ব্যাক স্লোগানের মাঝে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধাক্কা মারে ছাত্ররা। এমনকী তাঁর চুল ধরেও টানা হয়। 
এরপরই ক্যাম্পাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল ভবনে ফোন করেন বাবুল। পরে খোঁজ নিয়ে বিকেল ৪টে ১৫ তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোন করেন রাজ্যপাল। দ্রুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থার রিপোর্ট চেয়ে পাঠান তিনি। ক্য়াম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

এদিকে হেনস্থার পর ঘটনার জন্য উপাচার্যকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান বাবুল। উপাচার্যকে তিনি বলেন, আমার মুখে ঘুসি মারছে, চুল ধরে টানছে। ক্যাম্পাসে একজন মন্ত্রী আসছেন জেনেও আপনি তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেননি। আপনাদের মতো লোকের জন্যই আজ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার এই অবস্থা। আপনি চাইছিলেন এটা হোক। আমি নিশ্চিত আপনি একজন বামপন্থী। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য। মন্ত্রীকে তিনি জানান, তাঁকে এবিভিপির অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি বলেই তিনি আসেননি। যখনই খবর পেয়েছেন তখনই ছুটে এসেছেন।

পরে সংবাদমাধ্য়মের সামনে বাবুল বলেন,যেভাবে মেয়েরা আমার সামনে শুয়ে পড়ছিল, তা  দেখে অবাক হয়েছি। মূলত আমি তাঁদের পায়ের তলায় তাঁরা চাপা পড়ছে এটা  প্রমাণ করতেই এই কাজ করা হচ্ছিল। কেউ কেউ ইচ্ছে করেই আমার গায়ের ওপর চলে আসছিল। আগে যাদবপুরের বিষয়ে এরকম শুনেছিলাম, এবার এসে তা প্রত্যক্ষ করলাম।