মুসলিম ধর্মগুরুদের বিদ্বেষের মুখে নুসরত জাহানের পাশে দাঁড়ালেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। টুইটারে নুসরতের পাশে দাঁড়াতে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে এনেছেন এই লেখিকা। যার জেরে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ।   

এবার মুসলিম ধর্মগুরুদের বিদ্বেষের মুখে নুসরত জাহানের পাশে দাঁড়ালেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। টুইটারে নুসরতের পাশে দাঁড়াতে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে এনেছেন এই লেখিকা। যার জেরে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বাকযুদ্ধ। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অ-মুসলিম হিসাবে হিজাব পরে দুয়া করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধর্ম নিরপেক্ষ বলেন মুসলিম ধর্মগুরুরা। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ডে খুশিও হন তারা। কিন্তু অ-হিন্দু হিসাবে নুসরত জাহান পুজো মণ্ডপে নাঁচ বা প্রার্থনা করলে সেটা ইসলাম বিরোধী হয়ে যায়। যা নিয়ে মুসলিম ধর্মগুরুরা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগড়ে দেন। এটা কীসের পরিচয়। টুইটারে এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন লেখিকা নুসরত জাহান। সম্প্রতি দেবী দুর্গার কাছে অঞ্জলি দিতে দেখা যায় তৃণমূলের সাংসদ নুসরত জাহানকে। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পাশে স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে মণ্ডপে ঢাকও বাজান নুসরত। যা ঘিরে মুসলিম ধর্মগুরুরা নুসরতের সম্পর্কে গালমন্দ করেন। তাঁরা দাবি করেন,ভিন ধর্মের উৎসবে অংশ নিলেও, তাতে সক্রিয় ভাবে যোগদানের কোনও প্রয়োজন ছিল না নুসরতের। এরকম করতে চাইলে নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে নিলেই পারেন এই সাংসদ ৷ 

এখানেই থেমে থাকেনি নুসরতের প্রতি বিদ্বেষ। উত্তরপ্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দের এক ধর্মগুরু জানিয়ে দেন, এভাবে মুসলিম হয়ে আল্লা ছাড়া অন্য কোনও ভগবানকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা যায় না৷ তিনি বলেন,ইসলাম এই ধরনের কাজকে সমর্থন করে না ৷ আল্লা ছাড়া অন্য কারও উপাসনা করা ইসলামের চোখে হারাম। তাঁর দাবি, কোনও মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ অন্য ধর্মের হয়ে উপাসনা করতে পারেন না৷ সেটা করতে হলে তাঁকে ধর্মান্তরিত হতে হবে। এখানেই থেমে থাকেনি নুসরতের প্রতি ক্ষোভ। নেট দুনিয়ায় কিছু লোক লিখেছেন,দুর্গাপুজোয় অঞ্জলি দেওয়া ও ঢাক বাজানোর জন্য নুসরতকে পুড়িয়ে মারা হোক। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল। টুইটারে তথাগত লিখেছেন, দুর্গাপুজোর মণ্ডপে আজান বাজানোয় হিন্দুরা আপত্তি তুললে তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষরা সরব হন। অথচ নুসরত দেবীকে প্রণাম করে নাঁচলে তা ইসলাম অবমাননা হয়। তখন মুসলিম ধর্মগুরুদের হুমকির কথা শুনেও চারিদিকে শ্মশানের নিস্তব্ধতা থাকে। এ কেমন বিষয়।