সালটা ২০১২। বজবজের খড়িবেড়িয়ার বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের ছাত্র অর্পণ সরকারের স্বাস্থ্য ক্রমেই ভেঙে পড়ছিল।   চিকিৎসক  পরীক্ষা করে  জানান  ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত  নবম শ্রেণির ছাত্র অর্পণ। দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন বাবা চন্দ্রনাথ সর্দার ও মা জয়ন্তী দেবী। সামান্য মালির কাজ করে সংসার চালানোই যেখানে অসম্ভব সেখানে ক্যান্সারের মত রোগের চিকিৎসা করাবেন কী করে!  তবে একমাত্র ছেলেকে যেভাবেই হোক সুস্থ করে তুলতে হবে, এটাই মনে, প্রাণে স্থির করে নিয়েছিলন সর্দার দম্পতি। টানা দুবছর ঠাকুর পুকুরের ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা চলেছিল অর্পণের। ২৪টা কেমো নিতে হয়েছিল তাঁকে। এখন অনেকটাই সুস্থ অর্পণ। মারণ রোগ থাবা বসাতে পারেনি তাঁর আত্মবিশ্বাসে।

ছোট থেকেই শিল্পী হতে চাইত অর্পণ। মাটি নিয়ে গড়ত মূর্তি।  জীবনের এই ভালবাসাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় সে। এবারের দুর্গা পুজোয় ৬টি মূর্তি তৈরি করছে অর্পণ। যা শোভা পাবে শহর কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে। যার মধ্যে রয়েছে ৯ ফুটের দুর্গা প্রতিমাও। আগামী দিনে আর্ট কলেজে পড়তে চায় এই হার না মানা ছেলেটি। তবে এর মাঝে নিজের পড়াশোনাকে অবহেলা করেনি অর্পণ। বজবজ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সে।

মা প্রথমে চেয়েছিলেন পড়াশোনা করে চাকরি করুক অর্পণ। তবে মাটি, রঙ, তুলির প্রতি ছেলের ভালবাসা দেখে তিনিও বদলে নিয়েছেন সিদ্ধান্ত। নিজের জগতে বড় হোক অর্ণব, সুস্থ ভাবে বাঁচুক ছেলে, একটাই আর্তি মায়ের।

 ক্যান্সার বাসা বেঁধেছিল শরীরে,  তবে  জীবন যুদ্ধে লড়ে আসা অর্ণবের কোনও ক্ষোভ নেই এই মারণ রোগ নিয়ে। কারণ ক্যান্সার জিতেই তো নিজের ভালবাসাকে পেয়েছে সে। এগিয়ে যেতে পেরেছে স্বপ্ন পূরণের দিকে। আর হয়ে উঠেছে আরও অনেক অর্ণবের পথের দিশারি।