হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার বেলিলিয়াস রোডে পুলিশ পেটানোর ঘটনায় রাতেই কড়া পদক্ষেপ নিল নবান্ন। সরিয়ে দেওয়া হল হাওড়ার পুর-কমিশনার বিজিন কৃষ্ণাকে। ঘটনার পর রাতে নবান্নের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, হাওড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক ধবল জৈন আপাতত পুর কমিশনের পদের দায়িত্ব সামলাবেন।এদিকে লকডাউনে বাধা ও পুলিসের এপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৬জনকে। শুরু হয়েছে ধরপাকড়। বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে বেলিলিয়াস রোডে। 

— Asianet News Bangla (@asianet_bangla) April 28, 2020 

এদিন বিকেলে হটস্পট হাওড়াতে লকডাউন ভাঙা জনতাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলায় পুলিশের উপরে আক্রমণ চালায় উন্মত্ত জনতা। তাদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে দুই পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দুটি গাড়িতে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া থানা এলাকার টিকিয়াপাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাসের কাছে। আগেই ওই এলাকাগুলি হট স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাওড়া শহর এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ঘোষণা করেন। রেড জোনে থাকা হাওড়াকে তিনি ১৪ দিনের মধ্যে অরেঞ্জ জোনে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। তারপরেও মঙ্গলবার প্রায় সকাল থেকেই ওইসব এলাকায় বহু মানুষকে লকডাউনের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। বিকেলে টিকিয়াপাড়ার বেলিলিয়াস রোডে ফল ও অন্যান্য জিনিস কেনার জন্য অসংখ্য মানুষকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। এই সময়ে এলাকায় টহলরত পুলিশ বাইরে বেরোনো মানুষজনকে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। 

হটস্পট হাওড়াতে পুলিশকে লক্ষ্য় করে এলোপাথারি ইট, মাথা ফাটল কনস্টেবলের..

কিন্তু পুলিশের অনুরোধকে গ্রাহ্যের মধ্যেই আনেনি রাস্তায় নামা কয়েকশো মানুষ। বিকেল যত গড়িয়েছে মানুষের ভিড় ততই বাড়তে থাকে। কারও মধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদও ছিল না। অভিযোগ, একরকম বাধ্য হয়েই পুলিশ এলাকার মানুষকে ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য সামান্য বল প্রয়োগ করে। তক্ষণাৎ কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। তারপরই তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। র্য়াফ কর্মীকেও সম্মিলিত জনতা মারধর করতে থাকে। 

জনতার ছোঁড়া ইটের আঘাতে একজন সাব-ইন্সপেক্টর সহ দুই পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে। উন্মত্ত জনতা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে পুলিশ কর্মীরা কোনওরকমে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসেন। তারপর বিশাল সংখ্যক পুলিশ, রাফ ও কমব্যাট ফোর্স গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী অরূপ রায় জানান মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সর্বত্র মানুষকে লকডাউনের গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে। 

রাজ্য়ে মৃত বেড়ে ২২, বাংলায় করোনা আক্রান্ত ৫২২.

 ঘটনার পরেই টিকিয়াপাড়া অঞ্চলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশবাহিনী। ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, সবাইকে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হচ্ছে।