দিল্লির নিজামুদ্দিনের ধর্মীয় সভায় বাংলা থেকে কারা গিয়েছিলেন তার খোঁজ শুরু হল রাজ্য়ে। করোনা আতঙ্কের জেরে এদের সবাইকে ১৪ দিনের কোয়রান্টিনে থাকতে হবে।
জানা গিয়েছে, নিজামউদ্দিনের সভা থেকে ফিরে তেলেঙ্গানার ৬ বাসিন্দা করোনায় মারা গিয়েছেন। রাজ্য সরকারের অনুমান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কমপক্ষে একশোজন গিয়েছিলেন দিল্লির ধর্মীয় সভায়। এখন দিল্লি ফেরত সেই মানুষদেরই খুঁজে বেড়াচ্ছে রাজ্য় সরকার।

সমবেত খিল্লি শেষ, মানুষটার পরিচয় প্রকাশ পেতেই এবার শুরু বিবেক দংশনের পালা

ইতিমধ্যেই রাজ্য় থেকে ওই ধর্মীয় সভায় যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য় দফতর। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন খোদ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে জানিয়েছেন, রাজ্য থেকে দিল্লির ধর্মীয় সভায় যাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁদের সবাইকে করোনা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি ১৪ দিনের কোয়রান্টিন বাধ্য়তামূলক। 

রাজ্য়ে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত, রাত পেরোলেই বৃষ্টির সম্ভাবনা

জানা গিয়েছে,কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বার্তা পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য় সরকার। ইতিমধ্য়েই বিভিন্ন রাজ্য়ের কাছে একটি তালিকা দিল্লির ধর্মীয় সভায় যোগদানকারীদের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। সূত্রের মতে, কেরল, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানার মতো রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকেও প্রচুর মানুষ জড় হয়েছিলেন তবলিগ জামাতে। 

অভিষেক দিলেন ৫০ লক্ষ, রূপা একাই ৮ কোটি.

এদিকে নিজামুদ্দিনকাণ্ড সামনে আসতেই সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই ঘটনায় লেফট্যানেন্ট গভর্নরকে চিঠি লিখে এফআইআর দায়ের করার অনুমতি চেয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
অরবিন্দ কেজরিওয়াল আরও জানিয়েছেন, দিল্লিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯৭। যারমধ্যে ২৪ জনের সঙ্গেই যোগ রয়েছে নিজামুদ্দিনের অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছিলেন। 

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, প্রায়  দেড় হাজার মানুষের জমায়েত হয়েছিল নিজামুদ্দিনে। যারমধ্যে ৪৪১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ১,১০৭ জনের শরীরে এখনও পর্যন্ত কোনও উপসর্গ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তাও তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। 

মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিজামুদ্দিনে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ঠেসাঠেসি করে জড়ো হয়েছিলেন হাজারখানের লোক। কিন্তু করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন দেশে বাড়ছে তখন কেন এই জানিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তাই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।