বর্ষা মানেই শুরু ডেঙ্গু আতঙ্ক। ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগ্যানাইজেশন (হু) জানাচ্ছে বিশ্বের ১২৮টি দেশের ৩৯০ কোটি মানুষ এই মুহূর্তে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে। এডিস মশার প্রকোপ থেকেই যে এই ভয়াবহ মারণ রোগ জাঁকিয়ে বসে তা সর্বজনবিদিত। বৃষ্টি, আবর্জনা, জল জমে থাকা, নগরায়ন বিভিন্ন কারণে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। 

হু জানাচ্ছে নেপালের কাঠমাণ্ডতে বর্ষা আসন্ন। তাই এই মুহূর্তে এই এলাকায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। ১৯৫০ সালে ফিলিপিনস ও থাইল্যান্ডে প্রথম ডেঙ্গু ধরা পড়ে। দুই জায়গাতেই প্রায় মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল মশা বাহিত এই রোগ। 

ডেঙ্গু ধরা পড়তেই এতটা সময় চলে যায় যে পরে এই রোগ  ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ডেঙ্গুর মূল উপসর্গ জ্বর। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সকলে একে সাধারণ ঠান্ডা লাগা জ্বর বলে এড়িয়ে যান। জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা, গায়ে হাত পায়ে ব্যথা, গায়ে  র‍্যাশ, ক্লান্তি ইত্যাদি লেগেই থাকে। যাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম, তাঁদের উপরে সহজেই জাঁকিয়ে বসে এই রোগ। শিরদাঁড়া বরাবর কোমর ও পিঠে মারাত্বক ব্যথা হওয়ার কারণে ডেঙ্গুকে ব্যাকবোন ফিভারও বলা হয়। মশার কামড় খাওয়ার ৭-৮ দিনের মধ্যে এই ডেঙ্গুর শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

কিন্তু ডেঙ্গু কমানোর জন্য তেমন কোনও চিকিৎসা নেই। শুধুমাত্র প্লেটলেট কাউন্ট বাড়ানোর জন্য যা যা দরকার তাই করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। 

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ডেঙ্গু হয়েছে কি না বুঝতে কী করতে হবে- 

১) একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের প্লেটলেট কাউন্ট হয় ২.৫ লক্ষ। এই পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়ার ডেঙ্গুর বড় লক্ষণ। তাই পরীক্ষা করান তাড়াতাড়ি। 

২) এলিসা এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট ডেঙ্গু ধরার জন্য অন্যতম পরীক্ষা। যদিও একদন প্রথম পর্যায়ে এই পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা নাও পড়তে পারে। 

৩) ভাইরাল ডিএনএন ডিটেক্ট করার জন্য করা হয় পিসিআর টেস্ট। ইনফেকশনের ৭ দিনের মধ্য়ে এই পরীক্ষা করালে ধরা পড়ে ডেঙ্গু।