চিকিৎসকমহলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এমন এক ক্ষুদ্র ভাইরাস যার নামই অতীতে কেউ শোনেনি।  চিকিৎসকরা পরিষ্কার জানাচ্ছেন এই জীবাণু শরীরে বাসা বাঁধলে ঈশ্বরে ভরসা রাখা ছাড়া আর কোনও নিদান জানা নেই খোদ চিকিৎসকেরও। খোলসা করে বলা যাক, জীবাণুর নাম ক্যান্ডিডা অরিস। তার আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য শিশুরা। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার একটি হাসপাতালে একটা গোটা শিশুবিভাগ
আক্রান্ত হয়েছে এই জীবাণু দ্বারা।

ক্যান্ডিডা অরিস কী

ক্যান্ডিডা অরিস এক ধরণের ছত্রাক সংক্রমণ। দ্রুত গতিতে তা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্ব জুড়ে।  আফ্রিকা মহাদেশের কেনিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইউরোপের ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি বা মার্কিন প্রদেশের ইউএস, কানাডা ভেনেজুয়েলা তো রয়েছেই। এই মারণ সংক্রমণ প্রবেশ করেছে এশিয়াতেও। এমনকী সুরক্ষিত নন ভারতীয় নাগরিকরাও।  এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ জনতার মধ্যে ভয়ের সমক্রমণ এড়াতেই এই জীবাণু সম্পর্কে তথ্য গোপন করা হচ্ছে।

রোগের উৎস

২০০৯ সালে জাপানে এক রোগীর শরীরে এই প্রাণঘাতী সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার পর থেকেই চুপিসারে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। শুধু মাত্র ইউএসএই ছড়িয়ে এই পর্যন্ত ৫৮৭ জন রোগীর শরীরে এই রোগকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সংক্রমণ আর পাঁচটা সংক্রমণের তুলনায় অনেকটাই আলাদা কেননা ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ওষুধ কার্যকর হয় না। দুই বা তার বেশি অ্যান্টিফাংগাল ওষুধ প্রয়োগ করেও ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

ক্যান্ডিডা অরিস-এর উপসর্গ

এই মারণ সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গগুলি হল জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি। কিন্তু একজন ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে গেলে এই উপসর্গগুলিই মারাত্মক আকার নিতে পারে। 

ক্যান্ডিলা আক্রান্তের প্রাণের মেয়াদ

সম্প্রতি নিউইয়র্কের  সিনাই উপত্যকায় একজন সংক্রমিত ব্যক্তি ৯০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষরক্ষা করতে পারেননি। চিকিৎসকরা তাই ৯০ দিনকেই চূড়ান্ত সময় বলে গণ্য করছেন।

ভয়ের কথা, মার্কিন দেশেও চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে স্বতস্ফূর্ত ভাবে রোগীর কাছে যেতে চাইছেন না।