সময়টা ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০৭ এক জাট শিখ পরিবারে জন্ম হয়েছিল দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক প্রভাবশীল বিপ্লবীর। যাকে তৎকালীন সময়ের সারা দেশ শহিদ-ই-আজম ভগৎ সিং নামে অভিহিত করেছিল। ভগৎ সিং-এর জন্মের আগে থেকে তাঁর পরিবার ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। অল্প বয়সেই তিনি ইউরোপীয় বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনা করেন এবং নৈরাজ্যবাদ ও কমিউনিজমের প্রতি আকৃষ্ট হন। এরপর থেকে আর কেউ আটকাতে পারেনি তাঁকে। একাধিক বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। জেলে বন্দীদশা অবস্থায় ভারতীয় ও ব্রিটিশ বন্দীদের সমানাধিকারের দাবিতে টানা ৬৪ দিন অনশন চালিয়ে সমর্থন আদায় করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী লালা লাজপত রায়ের হত্যার প্রতিশোধে এক ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারকে গুলি করে হত্যার অপরাধে বিচারে তাঁকে ফাঁসির শাস্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন- মার্চ মাসে পরপর ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক, বন্ধ থাকতে পারে এটিএম পরিষেবাও

প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এমন বহু পোস্ট নিশ্চয়ই আপনারও চোখে পড়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারিতেই ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল ভগৎ সিং-কে। সোশ্যাল মিডিয়ার এমন বহু পোস্টে দাবি করা হয় ১৯৩১ সালে আজেকর দিনেই ভারতের তিন বীর সন্তান ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরু-দের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তাই আজকের এই দিন কালো দিবস হিসেবে পালন করা উচিৎ। ২০১১ সালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ অথবা কারা ভগৎ সিং-এর ভগৎ সিং নামের উইকিপিডিয়ার পেজটি ৫৫ বারের মত এডিট করা হয়েছিল। ২০১১ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়ে দ্য হিন্দু পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরু-দের ফাঁসি হয়েছিল এই তথ্য একেবারেই ভুল।

 

আরও পড়ুন- আর ৬দিন কাজ নয়, সপ্তাহে ২দিন ছুটি ঘোষণা সরকারের

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভগৎ সিং-দের ফাঁসি দেওয়া হয়নি। বরং তাঁদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ। ২০১৫ সালে সর্বভারতীয় আরও এক সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সত্য-তথ্য টিম শহিদভগৎসিং ডট কম নামে এক ওয়েবসাইট ঘেঁটে পাঞ্জাব গভর্নর-কে লেখা খোদ ভগৎ সিং-এর একটি চিঠি প্রকাশ্যে আনেন। যাতে ভগৎ সিং তাঁদের তিনজনকে গুলি করে মারার অনুরোধ জানান। এই ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় জেলের সুপারিটেন্ডেন্টের দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট, যাতে ফাঁসির দিন ২৩ মার্চ ১৯৩১ তারিখটির উল্লেখ রয়েছে।