মার্চ মাস হল গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য একটি আদর্শ সময়, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া গাছের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল থাকে। এই সময় লাউ, ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, এবং টমেটোর মতো গাছ লাগালে সঠিক যত্নে পুরো গরমকাল জুড়ে বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব।

মার্চ মাসটা বাগান করার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় আবহাওয়া না খুব ঠান্ডা, না খুব গরম থাকে, তাই সবজি গাছ তরতর করে বেড়ে ওঠে। মার্চে যদি ঠিকঠাক সবজি লাগাতে পারেন, তাহলে গোটা গরমকাল জুড়ে আপনার বাড়িতেই থাকবে টাটকা, স্বাস্থ্যকর সবজির জোগান।

লাউ

মার্চে লাউ গাছ লাগানো খুব লাভজনক। এই লতানো গাছ সামান্য যত্নেই ভালো ফলন দেয়। হালকা মাটিতে লাউয়ের বীজ পুঁতুন এবং লতা বেড়ে ওঠার জন্য মাচা করে দিন। নিয়মিত জল আর রোদ পেলেই ৪৫-৫০ দিনের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করবে। গরমের জন্য লাউ খুব স্বাস্থ্যকরও বটে।

ঢ্যাঁড়শ

গরমকালে সবচেয়ে সহজে যে সবজিগুলো চাষ করা যায়, তার মধ্যে ঢ্যাঁড়শ অন্যতম। এর বীজ সরাসরি টবে বা মার্চ মাসে মাটিতে পুঁততে পারেন। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা রোদ প্রয়োজন। হালকা সেচ আর মাঝে মাঝে আগাছা পরিষ্কার করে দিলেই গাছ দ্রুত বাড়ে। মাত্র ৪০ দিনেই টাটকা ঢ্যাঁড়শ তোলার জন্য তৈরি হয়ে যায়।

বেগুন

মার্চে বেগুনের চাষ শুরু করলে গরমকালে ভালো ফসল মেলে। বীজ বা চারা, দুই ভাবেই এটা লাগানো যায়। বেগুনের জন্য গভীর এবং পুষ্টিকর মাটি দরকার। নিয়মিত জল, সার এবং পোকামাকড় থেকে বাঁচিয়ে রাখলে এই গাছ অনেকদিন ধরে ফল দেয়। কিচেন গার্ডেনের জন্য এটি একটি দারুণ বিকল্প।

পালং শাক

মার্চে পালং শাক লাগানোও একটি বুদ্ধিমানের কাজ। পালং খুব দ্রুত বাড়ে এবং টবে সহজেই চাষ করা যায়। হালকা মাটিতে বীজ বুনে মাটি ভেজা ভেজা রাখুন। ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই পালং শাক তোলা শুরু করা যায়, ফলে আপনি একটানা টাটকা পাতা পাবেন।

টমেটো

মার্চ মাসে লাগানো টমেটো গাছ গরমে ভালো ফলন দেয়। টমেটোর জন্য রোদ এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা ভালো থাকা দরকার। গাছকে ঠেকনা দেওয়া জরুরি, যাতে ফল মাটি না ছোঁয়। সময়মতো জল আর জৈব সার দিলে লাল, রসালো আর সুস্বাদু টমেটো পাওয়া যায়।

ঝিঙে

ঝিঙে গরমকালের একটি জনপ্রিয় সবজি, আর মার্চ মাসেই এটি লাগানোর সেরা সময়। এর লতা খুব দ্রুত বাড়ে এবং অল্প সময়েই ফল দিতে শুরু করে। ঝিঙের জন্য নিয়মিত জল এবং সরাসরি রোদ প্রয়োজন। ঠিকমতো যত্ন নিলে গোটা গরমকাল ধরেই এই গাছ সবজি দেবে।

বরবটি

মার্চে বোনা বরবটি গরমকালেও ভালো ফলন দেয়। এই সবজি মাটির উর্বরতাও বাড়াতে সাহায্য করে। এর গাছের জন্য খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত জল আর হালকা সার দিলেই তাড়াতাড়ি ফল ধরে। এই সবজি স্বাদ এবং পুষ্টি, দুটোতেই ভরপুর।