বিউ সরকার- বড়দিনে উৎসবে  প্রতি বছরই মেতে ওঠে এই শহর। বড়দিন এখন শুধু খ্রিস্টানের উৎসব নয়। সকল ধর্মের মানুষ এই উৎসবে সামিল হয়।  বড়দিন  বলতেই আমরা জানি সান্তাক্লজ, ক্রিস্টমাস ট্রি। আর সবথেকে আকর্ষণীয় হল যে জিনিসটা ছাড়া উৎসবই হয় না, ফ্রুট কেক। এটা ছাড়া অসম্পূর্ণ বড়দিন। আর বাকি মাত্র ছয় দিন। ইতিমধ্যেই গোটা শহর সেজে উঠেছে আলোর রোশনায়। কেকের গন্ধে  ভরে উঠেছে চারিদিক।

অতিমারির জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবছরে মানুষের মনে একটু উন্মাদনা কম আছে ঠিকই। তবুও এই বড়দিন মরসুমের কেকের স্বাদ উপভোগ করতে কে না চায়! কেক মানেই সকলেই যে বেকারিকে এক নামে চেনে কলকাতার নিউমার্কেটের নাহুম।  কিন্তু নাহুমের কেকের স্বাদ যেমন অতুলনীয়, তেমন এখানকার কেকের মূল্য ও খুবই কম। সব রকমের মূল্যের কেক পাওয়া যায় এখানে। যে একবার খায় সে ভোলে না স্বাদ। বারবার তাকে এই স্তাদ উপভোগ করতে ছুটে যেতে হয় নাহুমে। এখানকার কেকের স্বাদ উপভোগ না করলে অনেকের বড়দিন সম্পূর্ণ হয় না। 

কাকুলী , স্বাগতার মতো অনেকে আবার শুধু  বড়দিন উপলক্ষ্যে নয় সময় পেলেই চলে আসেন নাহুমের কেকের স্বাদ নিতে। কোয়ালিটির দিক থেকে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে । নাহুম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯০২ সালে। কালের সময়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এই নাহুম। এখানকার কেকের বিশেষত্ত্ব হল প্লেন কেক, রিচ ফ্রুট কেক,লাইট প্লাম কেক , স্পেশাল ফ্রুট কেক। অন্য সময় এখানকার কেকের ওজন হয় প্রায় ৪০০ গ্রাম। কিন্তু বড়দিনের সময় ৫০০ গ্রাম ওজন বাড়িয়ে বিশেষভাবে তৈরি হয় এই কেক। বড় কেক ছাড়াও ছোট ছোট ,চকলেট স্ট্রবেরি বিভিন্ন স্বাদের কেক পাওয়া যায়। দেখলেই জিভে জল চলে আসে।

এখানে ৪০০ গ্রাম প্লেই কেক এর দাম ২২০ টাকা,লাইট প্লাম কেক এর ৪০০ গ্রাম এর দাম ২৮০ টাকা, রিচ ফ্রুট কেক এর ৪০০ গ্রাম এর দাম ৩৪০ টাকা, স্পেশাল ফ্রুট কেক এর ৫০০ গ্রাম এর দাম ৫০০ টাকা, চকোলেট কেক এর ৪০০ গ্রাম এর দাম ২৮০ টাকা,স্ট্রবেরি কেক এর ৮০০ গ্রাম এর দাম ৫৬০ টাকা।

নাহুম এর কর্মরত অতনু চ্যাটার্জী  কুড়ি বছর ধরে এই দোকানে কাজ করছেন। যদিও তার কাছে এটা খুবই সামান্য। কারণ তিনি বলেন এর দোকান প্রায় একশো কুড়ি বছরের কাছে সেখানে খুবই সামান্য। এই বছর করোনার জন্য অন্যান্য বছরের মতো বিক্রি নেই। তবুও লোক আসছেন এটাই তাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। প্রতি বছর সময় পান না এই সময়ে।  দোকানে স্যানিটাইজ করছেন বলে জানালেন। আজকাল  এখন অনেক জায়গাতেই ফ্রুট কেক পাওয়া যায় ঠিকই। বিভিন্ন রকমের বেকারি তারা সাজিয়ে রাখে যদিও বিক্রি খুব কম এবছর জানালেন শেখ মহম্মদ। করোনার জন্য খরিদ্দার আসছে না বললেই চলে। আর সাত দিন বাকি কিন্তু দোকানে লোকের দেখা মিলছে না।