বিয়ের আগে পার্লারের দামী ট্রিটমেন্টের বদলে ঘরোয়া উপায়েই ত্বকের জেল্লা ফেরানো সম্ভব। বেসন, কফি, হলুদ ও দই দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ ফেসপ্যাক বিয়ের ২০ দিন আগে থেকে ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও মসৃণ। 

বিয়ের দিনে মুখে জেল্লা আনতে মেয়েরা প্রায়ই পার্লারে যায়। হাইড্রা, গোল্ড বা সিলভার ফেশিয়ালের মতো ট্রিটমেন্টের জন্য ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করে ফেলে। কিন্তু এতে থাকা রাসায়নিক অনেক সময় ত্বকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখাতে পারে। যদি আপনি বিয়ের ২০ দিন আগে থেকেই ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করেন, তাহলে কোনও ক্ষতি ছাড়াই প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা পাওয়া নিশ্চিত। আসুন জেনে নিই রান্নাঘরে থাকা জিনিস দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ ফেসপ্যাক।

ফেসপ্যাক বানানোর উপকরণ

২ চামচ বেসন

১ চামচ কফি পাউডার

আধ চামচ হলুদ

আধ চামচ দই

১ চামচ মধু

গোলাপ জল (ঐচ্ছিক)

বানানোর পদ্ধতি

সব উপকরণ একটি পরিষ্কার বাটিতে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মুখ এবং গলা ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর এই উবটানটি লাগান। ২০-৩০ মিনিট শুকোতে দিন, তারপর হালকা হাতে ঘষে পরিষ্কার করুন। বেশি শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, কিন্তু মুখ জোরে ঘষবেন না। বিয়ের ২০ দিন আগে থেকে একদিন অন্তর অন্তর এটি লাগান। এতে মুখ উজ্জ্বল হতে শুরু করবে।

এই উবটান কীভাবে কাজ করে

বেসন ডেড স্কিন সরিয়ে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে, কফি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ দাগ-ছোপ কম করে, দই ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে নরম বানায় এবং মধু প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার, মসৃণ এবং উজ্জ্বল দেখায়।

হবু কনেরা মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনতে এই সহজ কিন্তু কার্যকরী টিপসগুলো তাদের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন-

প্রচুর জল পান করুন: দিনে ৮-১০ গ্লাস জল ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে।

ডায়েটে মনোযোগ দিন: সবুজ শাকসবজি, ফল, ড্রাই ফ্রুটস এবং নারকেলের জল অন্তর্ভুক্ত করুন।

পর্যাপ্ত ঘুমান: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে মুখের ডালনেস এবং ডার্ক সার্কেল কমে যায়।

নিয়মিত ক্লিনজিং: ময়েশ্চারাইজিং: সকাল-সন্ধ্যা মুখ পরিষ্কার করুন এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার লাগান।

হালকা ফেস ম্যাসাজ: অ্যালোভেরা জেল বা গোলাপ জল দিয়ে প্রতিদিন ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন, এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে।

সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগান: এটি রোদ থেকে ট্যানিং এবং পিগমেন্টেশন প্রতিরোধ করবে।

মানসিক চাপ কম রাখুন: যোগা, মেডিটেশন বা গান শুনে নিজেকে রিল্যাক্স রাখুন।