ঈগল একপ্রকার বৃহৎ আকার, শক্তিধর, দক্ষ শিকারি পাখি। বানর, ছোট জাতের পাখি, টিকটিকি, হাস-মুরগী খেয়ে এরা জীবনধারণ করে। একটি পূর্ণবয়স্ক ঈগলের ওজন প্রায় ৩০ কেজি এবং লম্বায় প্রায় এরা ৩০-৩৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। জানলে অবাক হবেন একটি পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ঈগল ১১,০০০ ফুট উপরে উঠতে পারে। এরা সাধারণত জনমানব এলাকার বাইরে এবং কমপক্ষে ১০০ ফুট উপরে বাসা তৈরি করে প্রজনন ঘটায়। ঈগল-এর জীবন রক্ষার বড় হাতিয়ার তাদের পায়ের নখ। তাঁদের নখগুলো এতই তীক্ষ্ণ যে নিমিষের মধ্যে শিকারকে ছিন্নভিন্ন করতে সক্ষম। তবে বর্তমানে এরা বিলুপ্তির পথে। 

আরও পড়ুন- করোনা ভাইরাসের বাহক মানবদেহ, নিশ্চিত করল চিন

এখনও অবধি অনুমানিক সবচেয়ে বড় জাতের ঈগল হল হাস্ট ঈগল। ১৮৭৪ সালে জুলিয়াস ফন হাস্ট নিউজিল্যান্ডে এই জাতের ঈগলের প্রথম দেখা পাওয়া। তাই এই ঈগলের এই নামকরণ করা হয় হাস্ট ঈগল। এদের ডানা মেলা অবস্থায় প্রস্থ ৩ মিটার অবধি হত, ওজন হত ১৮ থেকে ২০ কেজি। বর্তমানে এরা বিলুপ্ত। তবে জানলে অবাক এই ঈগল প্রজাতির মধ্যে এমন এক প্রজাতি আছে যাদের দেখলে কোনও বহুরূপী মানুষ বলে মনে হবে। এই এই দৈত্যাকার ঈগল ৭-৮ কেজি ওজনের শিকার যেমন, হনুমান বা বাঁদর অথবা ভেঁড়া অনায়াসেই ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যেতে পারে। ঈগলের এই প্রজাতির নাম হার্পি ঈগল।

 

 

আরও পড়ুন- সারাদিনে শরীরের ঠিক কতটা জলের প্রয়োজন, জেনে নিন ফর্মুলা অনুযায়ী

হার্পি ঈগল লম্বায় প্রায় সাড়ে ৩ ফুটেরও বেশি হয়। ডানা মেললে তা প্রায় ৭-৮ ফুট অবধি হয়। বসে থাকলে হার্পি ঈগলের উচ্চতা প্রায় একটা পূর্ণ বয়স্ক মাঝারি উচ্চতার মানুষের মাথার সমান। আকাশের সবচেয়ে বড়, শক্তিশালী আর হিংস্র শিকারি পাখিদের মধ্যে অন্যতম হার্পি ঈগল। উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ অংশে ও দক্ষিণ আমেরিকা জুড়ে, ব্রাজিলের রেন ফরেস্টে, পাপুয়া নিউগিনিতে এদের দেখতে পাওয়া যায়। ঈগলের এই প্রজাতির মধ্যে স্ত্রী হার্পিরা আকারে একটু বেশি বড় হয়। ওজন সর্বাধিক ১২ কেজি। এর চেয়ে বেশি ওজনের স্ত্রী হার্পিও দেখা গেছে, তবে সেটা বিরল। পুরুষ হার্পিরা তুলনায় ছোট, ওজন ৫ কিলোগ্রামের মতো।

 

আরও পড়ুন- হাতের লেখা বদলে হবে টেক্সট, রইল স্যামসাঙ গ্যালাক্সি নোট ১০ লাইট-এর ম্যাজিক্যাল ফিচার

মার্কিন জীব বিজ্ঞানীরা এই হার্পির বিষয়ে জানিয়েছেন, স্ত্রী হার্পিরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি হিংস্র হয়। হার্পিরা নখ আর বাঁকানো ধারালো ঠোঁট দিয়ে শিকার ছিঁড়ে-খুবলে খায়। এই হার্পিদের শিকারের তালিকায় রয়েছে বাঁদর, ভেঁড়া ছাড়াও ম্যাকাও পাখি। বর্তমানে চোরাশিকার আর পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে হার্পি ঈগলের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে। তাই এই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগী হয়েছেন জীব বিজ্ঞানীরা।