অনেকেই বেশ গর্ব করে বলে থাকেন,  আমরা তো রাত এগারোটার সময়ে চা খাই। আর রাতে খেতে খেতে বারোটা বেজে যায়।

উত্তরে বলতে হয়, এতে করে আপনি নিজেই নিজেই বারোটা বাজাচ্ছেন। রাতের খাওয়া যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেরে ফেলা উচিত। এখন কেউ বলতেই পারেন, সারাদিন হাড়ভাঙা খাটনির পর রাতে বাড়ি ফিরে একটু আড্ডা মারবো না, একটু টিভি দেখব না।  উত্তরে বলি, নিশ্চয়, কিন্তু খাওয়াদাওয়া সেরে নিয়ে যা করার করুন। উচিত হল, বাড়ি এসে হাতমুখ ধুয়ে ডিনার সেরে নেওয়া, তারপর প্রাণখুলে গল্পগুজব করা। চাইলে টিভি দেখুন, ক্য়ারাম খেলুন।

জেনে রাখবেন, দেরিতে খেলে অনেক সমস্য়া। একে একে আসি  তাহলে।

প্রথমেই বলি, খাওয়ার অন্তত দুঘণ্টা পর শুতে যাওয়া উচিত। নইলে খাবার হজম হয় না। অম্বল হয়, গ্য়াস হয়। নানারকম সমস্য়া হয়। আপনি যদি এগারোটা কি তারও পরে ডিনার সারেন, তাহলে কখন শুতে যাবেন। তাই যা হয় এক্ষেত্রে, খাওয়ার খানিক্ষণের মধ্য়েই শুতে চলে যাওয়া। আর তারপরই বদহজমের সমস্য়া।

শুধুই কি হজমের সমস্য়া। দেরিতে ডিনার করলে ওজন বাড়ে। তাই দেখবেন, ডায়াটেশিয়ানরা ডায়াট চার্ট লেখার সময়ে বলে দেন, রাতে আটটার মধ্য়ে ডিনার করে নিন। তারপর নিজের মতো সময় কাটান। নইলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা খুবই মুশকিল হবে। অনেকে তো শুধু ডিনারের সময় পাল্টে ফেলেই ওজন কমিয়ে ফেলেন। কারণ জেনে রাখবেন, রাতে আমাদের পরিশ্রম কম হয়। অতএব ক্য়ালোরি খরচাও কম হয়। তাই উচিত, ডিনার খুব হালকা খাওয়া,  কম খাওয়া আর সেইসঙ্গে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খাওয়া। তাহলে খাওয়ার সঙ্গে শোওয়ার ব্য়বধান বাড়ে। ক্য়ালোরিও কম ইনটেক করা হয়। ফলে ওজন বাড়তে পারে না।

দেরি করে খেলে আরও অনেক সমস্য়া হতে পারে। অনেকে নেমন্তন্ন বাড়িতে দেরি করে খেয়ে বাড়িতে এসেই শুয়ে পড়েন। ফলে অনেকসময়ে হাঁসফাঁস করার মতো অবস্থা হয়। তাই হার্ট অ্য়াটাকের মতো অনেক অঘটন ঘটতেও দেখা গিয়েছে রাতে দেরিতে খাওয়ার ফলে আর পেটপুরে খাওয়ার ফলে।

তাই রাতে ডিনার করুন হালকা, সহজপাচ্য়। ভুঁড়িভোজ করার থাকলে সকালে করুন। নইলে সন্ধের মধ্য়ে। এছাড়াও বারোমাসই চেষ্টা করুন, রাতে আটটার মধ্য়ে ডিনার সেরে নেওয়ার।