সাধারণ আলুর বিকল্প হিসেবে এই আলু ডায়াবেটিক রোগীদের পাতে জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞানের ভাষায় এই আলু আসলে কী? এটি কি সত্যিই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না?

বাজারে 'সুগার-ফ্রি' বা চিনিমুক্ত আলুর প্রচলন মূলত একটি বিপণন কৌশল। এই আলুগুলো আদৌ সম্পূর্ণ চিনি বা কার্বোহাইড্রেট মুক্ত নয়। এগুলি মূলত কম স্টার্চযুক্ত বা কম শর্করা (Low Sugar/Low Starch) যুক্ত আলু, যা বিশেষ করে চিপস তৈরির জন্য উপযুক্ত এবং সাধারণ আলুর তুলনায় সামান্য কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) যুক্ত হতে পারে, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।

মূল তথ্য ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ:

* সুগার-ফ্রি আলুর আসল রহস্য: এই আলুগুলো কোনো জাদুকরী উদ্ভাবন নয়। সাধারণত আলু কোল্ড স্টোরেজে দীর্ঘদিন থাকলে তার ভেতরের শর্করা ভেঙ্গে চিনিতে পরিণত হয়। 'সুগার-ফ্রি' আলুগুলোকে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে স্টার্চ চিনিতে কম রূপান্তরিত হয়।

* কম সুগার, কিন্তু কার্বোহাইড্রেট আছে: এই আলুতে শর্করার পরিমাণ কম থাকলেও, প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ বা কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।

* বিপণন কৌশল: অনেক ক্ষেত্রে, CIPC (Chlorpropham) নামক একটি অঙ্কুর-প্রতিরোধক রাসায়নিক ব্যবহার করে আলুগুলোকে 'লো-সুগার' বা 'সুগার-ফ্রি' বলে বিক্রি করা হয়। এটি শুধুমাত্র ব্যবসায়ী বা চিপস প্রস্তুতকারকদের সুবিধার জন্য, পুষ্টিগুণ বাড়াতে নয়।

* ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: সাধারণ আলু এবং সুগার-ফ্রি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) খুব বেশি পার্থক্য করে না । তাই ডায়াবেটিস রোগীরা এটি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন না।

* নিরাপদ খাওয়ার উপায়: আলু যদি কাটার পর কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখা হয়, তবে অতিরিক্ত স্টার্চ এবং কিছু অংশ চিনি দূর করা সম্ভব, যা স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা ভালো।

উপসংহার:' সুগার-ফ্রি আলু' শব্দটি মূলত বিভ্রান্তিকর। সাধারণ আলু এবং তথাকথিত সুগার-ফ্রি আলুর মধ্যে স্বাস্থ্যগত পার্থক্য খুব সামান্য। তাই সুগার-ফ্রি ভেবে বেশি পরিমাণ আলু খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীর পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। কোনো ধরনের খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় নিয়মিত করার আগে বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।