গ্রীষ্মে যতই প্রাণ হাঁসফাঁস করুক, ফল দিয়ে রসনা তৃপ্তি করতে এর জুড়ি মেলা ভার। কাঠফাটা রোদ থেকে ঘুরে এসে এক বাটি লিচু বা এক গ্লাস লিচুর শরবৎ খাওয়া যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। এই গরমে মাছ, মাংস, ডিম, ইত্যাদি মশলাদার খাবারের থেকে যে লিচু আমের মতো ফল অনেক এগিয়ে থাকে, তা বলাই বাহুল্য। তাই এই গরমে জমিয়ে ফল খান। কারণ শুধু স্বাদেই নয়, গুণও  রয়েছে এর রকমারি। 

জেনে নেওয়া যাক, এই গরমে লিচু কিনলে কী কী ভাবে আপনি উপক-ত হবেন- 

১) লিচু হার্টের পক্ষে খুবই উপকারী। লিচুতে থাকে অলিগোনল যা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করতে সাহায্য করে। এই নাইট্রিক অক্সাইড আবার রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। ফলে হৃদযন্ত্র ভাল থাকে। 
২) লিচুর মধ্যে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যালস। এটি  অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে এবং চোখে ছানি পড়া আটকায়। তাই চোখ ভাল রাখতেও লিচু উপকারী। 
৩)  লিচুর মধ্য়ে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান রয়েছে। তাই নিয়মিত এই ফল খান। 
৪) আমে ক্যালরি বেশি থাকে বলে অতিরিক্ত খেলে হীতে বিপরীত হয়. কিন্তু লিচুতে ক্যালরি খুব কম। তাই ওজন বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
৫) লিচুর অলিগোনল উপাদান ভাইরাসকে বাড়তে দেয় না। তাই নিয়মিত লিচু খেলে শরীরে জ্বর বা ইনফেকশন থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৬) নিয়মিত এই ফল খেলে হজমশক্তি ভাল হয়।

তবে লিচু শুধু খেলেই যে উপকার পাওয়া যায়, তা নয়। চুল ও ত্বকের জন্যও লিচু খুবই কার্যকরী। 

১) চুল গজাতে সাহায্য করে লিচু। ৭ থেকে ৮টি লিচুর রস করুন। তাতে ২ টেবিল চামচ অ্যালো-ভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। তার পরে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
২) ত্বকের ট্যান দূর করতেও লিচু ব্যবহার করুন। ৩ থেকে ৪টি লিচু ছাড়িয়ে চটকে নিন। তার পর তাতে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুল সলিউশন মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে রেখে ৩০ মিনিট পরে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের ট্যান শীঘ্র দূর হবে। 
৩)  ৪ থেকে ৫টি লিচু ছাড়িয়ে চটকে মেখে নিন। তার পরে তুলো ওই মিশ্রণে ভিজিয়ে কালো দাগগুলিতে লাগান। ১৫ মিনিট পরে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের কালো ছোপ দূর হবে। 
৪) বয়সের ছাপ কমাতে লিচুর প্যাক ব্য়বহার করুন। ৪ থেকে ৫টি লিচু ছাড়িয়ে কলার এক-চতুর্থাংশ দিয়ে মেখে প্যাক বানিয়ে নিন। হাল্কা করে মাসাজ করে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ফল পাবেন।