রক্তদান করলে আপনি যেমন এক জনের প্রাণ বাঁচাতে পারেন, তেমনই রক্তদান করা আপনার শরীরের পক্ষেও দারুণ উপকারী। অনেকে আবার ভাবেন, ঋতুস্রাব চলাকালীন মহিলাদের রক্তদান করা ঠিক নয়। এই ধারণা কি ঠিক?
ঋতুস্রাব চলাকালীনও রক্তদান করা যায়, যদি আপনার শরীর সুস্থ থাকে তাহলেই সম্ভব। এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (heavy bleeding) বা রক্তাল্পতার (anemia) সমস্যা না থাকে, তবে বেশি দুর্বল লাগলে বা পিরিয়ড খুব বেশি হলে কিছুদিন অপেক্ষা করা ভালো। কারণ এতে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গিয়ে দুর্বলতা আসতে পারে। বেশিরভাগ মহিলার ক্ষেত্রে পিরিয়ডের কারণে হওয়া রক্তক্ষরণ এবং রক্তদান, উভয়ই শরীর সামলাতে পারে। তবে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
বিস্তারিত আলোচনা:
* প্রচলিত ভুল ধারণা: অনেকের ধারণা যে ঋতুস্রাব চলাকালীন রক্তদান করা বিপজ্জনক কিন্তু এটি সঠিক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সুস্থ মহিলারা পিরিয়ডের সময়ও রক্তদান করতে পারেন। * শরীর কীভাবে সামলায়: মাসিকের সময় সাধারণত ৩০-৮০ মিলিলিটার রক্তক্ষরণ হয়, যা রক্তদান করা প্রায় ৫০০ মিলিলিটার রক্তের তুলনায় অনেক কম। শরীর এই রক্তক্ষরণ সামলাতে সক্ষম।
• কখন অপেক্ষা করা ভালো:
• যদি আপনার পিরিয়ড খুব বেশি হয় (heavy menstrual bleeding) এবং আপনি দুর্বল বা রক্তাল্পতায় ভোগেন, তবে রক্তদান করলে সাময়িকভাবে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে এবং ক্লান্তি আসতে পারে। • যদি রক্তদানের দিন খুব বেশি দুর্বল লাগে, পেটে ব্যথা বা Cramps থাকে, তবে रक्तदान করা উচিত নয়।
* রক্তের গুণগত মান: ঋতুস্রাব রক্তদানের গুণগত মানকে প্রভাবিত করে না। দাতার রক্তের গুণগত মান সব সময়ই পরীক্ষা করা হয়। * অন্যান্য বিষয়:
• রক্তদানের জন্য আপনার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকতে হবে। * গর্ভবতী হলে, কোনো বড় অপারেশন হয়ে থাকলে বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন: অ্যান্টিবায়োটিক) গ্রহণ করলে রক্তদান করা যায় না, যা ঋতুস্রাবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
* পরামর্শ: নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগ দিন। যদি আপনার ঋতুস্রাবের সময় শরীর দুর্বল লাগে বা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে, তবে পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর রক্তদান করা নিরাপদ। অন্যথায়, আপনি অবশ্যই রক্তদান করতে পারেন এবং এটি একটি মহৎ কাজ।


